
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রায়গঞ্জে রাজনৈতিক পারদ চড়ে রয়েছে তুঙ্গে। তারই মাঝে এখন জোর জল্পনা—এবার কি রায়গঞ্জ পেতে চলেছে একজন পূর্ণমন্ত্রী? শাসক তৃণমূল ও প্রধান বিরোধী বিজেপি, দুই শিবিরেই এই প্রশ্ন ঘিরে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা।

তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকদের একাংশের দাবি, বিদায়ী বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যানী ফের জয়ী হতে চলেছেন এবং এবার অন্তত ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পাবেন এই শিল্পপতি। তাঁদের মতে, জেলা সদর রায়গঞ্জ থেকে একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ বিধায়ককে পূর্ণমন্ত্রী করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এতে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে এবং সরকারি প্রকল্প মানুষের দরজায় পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।

উল্লেখ্য, কৃষ্ণ কল্যানী ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের উপনির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। এবারও জয়ী হলে টানা তিনবার জয়ের রেকর্ড গড়বেন তিনি। সেই প্রেক্ষিতে তাঁকেই মন্ত্রীত্ব দেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা তুঙ্গে।

অন্যদিকে, বিজেপি শিবিরেও সমান আত্মবিশ্বাসের সুর। তাদের দাবি, রাজনীতিতে নবাগত কৌশিক চৌধুরী এবার ১৮ থেকে ২০ হাজার ভোটে জয়ী হবেন। পাশাপাশি কালিয়াগঞ্জ ও হেমতাবাদ আসনেও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী গেরুয়া শিবির। বিজেপি সমর্থকদের বক্তব্য, রাজ্যে এবার তাদের সরকার গঠন হলে কৌশিক চৌধুরীকে মন্ত্রী করা হতে পারে। তাঁদের মতে, শিক্ষিত ও মার্জিত এই প্রার্থী মন্ত্রীত্ব পেলে রায়গঞ্জ শহরের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

এদিকে, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা আরও সরল—দল যেই হোক, রায়গঞ্জ থেকে নির্বাচিত বিধায়ক যেন মন্ত্রী হন। অনেকেরই বক্তব্য, রায়গঞ্জ থেকে কেউ কোনোদিন পূর্ণমন্ত্রী হয়েছে বলে মনে করতে পারছেন না। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে রায়গঞ্জ বিধানসভার ভোটে জয়ী হন জাতীয় কংগ্রেসের দিলীপ কুমার দাস। ২০০১ এবং ২০০৬ এর নির্বাচনে জয়ী হয় জাতীয় কংগ্রেসের চিত্তরঞ্জন রায়। এরপর ২০১১ এবং ২০১৬ সালে পরপর জয়ী হন জাতীয় কংগ্রেসের মোহিত সেনগুপ্ত। ২০২১ থেকে বিধায়ক রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী হয়ে জয়ী হলেও পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসে দলবদল করা কৃষ্ণ কল্যানী।

রায়গঞ্জ শহরের উন্নয়ন দীর্ঘদিন ধরে থমকে রয়েছে বলেও অভিযোগ। রাস্তা সংস্কার, ফ্লাইওভার নির্মাণ থেকে শুরু করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি স্মার্ট সিটি হিসেবে রায়গঞ্জকে গড়ে তোলার দাবি জোরদার হচ্ছে। ফলে পূর্ণ মন্ত্রী পেলে শহরের গতি বাড়বে। এতে গ্রামের সাধারণ মানুষও উপকৃত হবেন। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের পরে রায়গঞ্জে এখন একটাই বড় প্রশ্ন—ভোটের ফল যাই হোক, এবার কি সত্যিই এই শহর পাবে একজন পূর্ণমন্ত্রী? এর উত্তর মিলবে নতুন সরকার গঠনের পরেই।






