Explore

Search

April 23, 2026 8:07 pm

IAS Coaching

পোল্ট্রি মুরগীর যোগানের অভাব, ভোট সেরে বাড়ি ফেরার পথে মিলল মিষ্টির প্যাকেট

#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে রায়গঞ্জ শহরে দেখা দিল পোল্ট্রি মুরগীর তীব্র সংকট। ফলে প্রতি বছরের মতো ভোট শেষে পোল্ট্রি ভাতের আয়োজন এ বার অনেকটাই ম্লান হয়ে গেল। তার বদলে ভোটারদের হাতে তুলে দেওয়া হল মিষ্টির প্যাকেট, কোথাও কোথাও মাছ ভাতের বন্দোবস্ত করল রাজনৈতিক দলগুলো।

স্থানীয় পোল্ট্রি ব্যবসায়ীদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়েই ঈদের মরসুম কাটায় মুরগীর চাহিদা ছিল তুঙ্গে। সেই চাপ এখনও কাটেনি, উল্টে এখন যোগানেই ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পোল্ট্রি মুরগীর বিক্রেতা মদন দাস বলেন, “কিছুদিন আগে ঈদ গেল। তখন চাহিদা ছিল তুঙ্গে। এখন মুরগীর সাপ্লাই নেই। ৫০ কেজি, ১০০ কেজির অর্ডার এসেছিল, কিন্তু একেবারে না বলে দিয়েছি।”

একই সুর শোনা গেল আরেক বিক্রেতা মনসুর আলীর গলাতেও। তিনি বলেন, “ভোটের বেশ কিছুদিন আগেই সিএপিএফ চলে আসায় ভালো চাহিদা ছিল। কিন্তু গত ৪-৫ দিন ধরে আড়তদাররা জানিয়ে দিয়েছে, আর যোগান দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে, এবার পোলট্রি বেচে লাভ করা হল না।”

প্রতি নির্বাচনের পরেই রায়গঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের জন্য পোল্ট্রি ভাতের আয়োজন করা একপ্রকার রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এ বার সেই ছবিতে ছেদ পড়েছে।
রায়গঞ্জ শহরের এক প্রাক্তন কাউন্সিলর জানান, “প্রতি বারই ভোট শেষে স্থানীয় ভোটাররা পোলট্রি ভাতের জন্য আবদার করেন।

কিন্তু এ বার মুরগীর সাপ্লাই কম থাকায় অল্প কিছু কর্মীদের জন্যই ব্যবস্থা করা গেছে। ভোটারদের কথা ভেবে তাই মিষ্টির প্যাকেটের বন্দোবস্ত করা হয়েছে।” আরও এক প্রাক্তন কোঅরডিনেটর বলেন, মুরগির মাংস পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এবার মাছ ভাতের বন্দোবস্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, পোল্ট্রি ভাত না পেয়ে হতাশ অনেক ভোটারই। এক মহিলা ভোটারকে বলতে শোনা গেল, “নাতনিটাকে বলেছিলাম, ভোট দিয়ে ফেরার সময় মাংস ভাত আনব। কিন্তু সেটা না হওয়ায় খুব মন খারাপ লাগছে। মাছ ভাতের প্যাকেট নিয়ে বাড়ি ফিরছি।

সব মিলিয়ে, ভোটের উৎসবের মাঝেই পোল্ট্রি সংকটের প্রভাব পড়ল রায়গঞ্জের রাজনৈতিক রীতিতেও। তবে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে মিষ্টির প্যাকেট দিয়েই আপ্যায়নের চেষ্টা করেছেন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা।

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja