
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ সামনেই বাঙালির নববর্ষ। আর নববর্ষ মানেই নতুন পঞ্জিকা ঘরে তোলা। কিন্তু এবছর সেই চিরাচরিত ছবিতে ভাটা পড়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে কাগজ সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে পঞ্জিকার বাজারে। ফলে রায়গঞ্জসহ উত্তর দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় পঞ্জিকার যোগানে দেখা দিয়েছে ব্যাপক টান।

রায়গঞ্জের মোহনবাটি বাজারের এক পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, “আগের মতো সরবরাহ নেই। কাগজের অভাবে ছাপাও কম হয়েছে, এছাড়াও সদ্য ঈদ গেল, কর্মচারীদের ছুটি ছিল। পাশাপাশি রাজ্যে ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। তাই বাজারে পঞ্জিকা পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে।”

অন্যদিকে, বিক্রেতা সঞ্জয় ঘোষের বক্তব্য, “আমাদের দোকানে এখনও কিছু পঞ্জিকা মজুত আছে। তবে সেগুলি মূলত খুচরো ক্রেতাদের জন্যই রাখা হয়েছে। বেশি পরিমাণে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।” ক্রেতাদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। নবীন দাস নামে এক ক্রেতা বলেন, “পঞ্জিকার কালোবাজারি শুরু হতে পারে এই আশঙ্কায় আমি দু’দিন আগেই কিনে নিয়েছি। তখনই দাম একটু বেশি ছিল। এখন তো প্রতি পিস ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।”

ব্যবসায়ী সংগঠন রায়গঞ্জ মার্চেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অতনু বন্ধু লাহিড়ী বলেন, যদি দ্রুত কাগজের সরবরাহ স্বাভাবিক না হয়, তবে নববর্ষের আগে পঞ্জিকার সংকট আরও প্রকট হতে পারে। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত দাম নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই। সব মিলিয়ে, যুদ্ধের প্রভাবে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় সাংস্কৃতিক উপকরণেও যে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে, তারই বাস্তব চিত্র এখন ধরা পড়ছে পঞ্জিকার বাজারে।








