Explore

Search

June 25, 2026 8:57 pm

IAS Coaching

অভিনব উদ্যোগ সমগ্র শিক্ষা মিশনের, স্কুলে স্কুলে বসছে সোলার ইলেকট্রিক চুল্লী

#রায়গঞ্জঃ উত্তর দিনাজপুর জেলায় মিড-ডে মিল বা পিএম পোষণ প্রকল্পের রান্নার ক্ষেত্রে এক অভিনব ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নিতে চলেছে জেলা প্রশাসন। জেলার মোট ১০৫টি স্কুলে বসানো হবে সোলার চালিত ইলেকট্রিক চুল্লী। এর ফলে রান্নার কাজে গ্যাসের উপর নির্ভরতা কমবে, পাশাপাশি পরিবেশ দূষণও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক কর্তারা।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, চোপড়া ব্লকের ৪টি, ডালখোলা পুরসভার ৩টি, গোয়ালপোখর-১ ব্লকের ১৪টি, গোয়ালপোখর-২ ব্লকের ১১টি, হেমতাবাদ ব্লকের ৭টি, ইসলামপুর ব্লকের ৫টি, ইসলামপুর পুরসভার ৬টি, ইটাহার ব্লকের ১৮টি, কালিয়াগঞ্জ পুরসভার ৩টি, কালিয়াগঞ্জ ব্লকের ৮টি, করণদিঘী ব্লকের ৬টি, রায়গঞ্জ ব্লকের ১৫টি এবং রায়গঞ্জ পুরসভার ৫টি স্কুলে এই সোলার ইলেকট্রিক চুল্লী স্থাপন করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জেলার ১০৫টি বিদ্যালয়ে পিএম পোষণের রান্না এই আধুনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

প্রশাসনিক আধিকারিকদের বক্তব্য, নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যালয়গুলির রান্নার খরচ কমানোই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের খরচ অনেকটাই কমে আসবে এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

জেলা সমগ্র শিক্ষা মিশনের কো-অর্ডিনেটর সোমনাথ চক্রবর্তী বলেন, “বিদ্যালয়গুলিতে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোলার ইলেকট্রিক চুল্লী ব্যবহারের ফলে রান্নার কাজ আরও সাশ্রয়ী ও নিরাপদ হবে। পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয় এবং পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসভার রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপী প্রামাণিক। তিনি বলেন, সরকারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বিদ্যালয়গুলিতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন বাড়বে, তেমনই রান্নার খরচও কমবে। ভবিষ্যতে আরও বেশি সংখ্যক বিদ্যালয়ে এই ধরনের ব্যবস্থা চালু করতে আমরা উদ্যোগ নেব।

পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি অনিরুদ্ধ সিনহা বলেন, সৌরশক্তির ব্যবহার বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রয়োজন। বিদ্যালয়গুলিতে সোলার ইলেকট্রিক চুল্লী স্থাপনের মাধ্যমে নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়বে এবং কার্বন নিঃসরণ কমবে। এটি পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ।

শিক্ষা ও পরিবেশ—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে চলা এই প্রকল্পকে ঘিরে জেলার শিক্ষকমহল, অভিভাবক এবং পরিবেশপ্রেমীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই উৎসাহের সঞ্চার হয়েছে। জেলার বিদ্যালয়গুলিতে সোলার প্রযুক্তির এই প্রয়োগ ভবিষ্যতে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja