
#কলকাতাঃ এবার স্কুলের কর্মরত শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন বা গৃহশিক্ষকতা নিয়ে ফের কড়া অবস্থান নিল রাজ্যের স্কুলশিক্ষা দফতর। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার জারি করা নির্দেশিকায় সমস্ত জেলার স্কুল পরিদর্শকদের (ডিআই) স্পষ্ট জানানো হয়েছে, কোনও কর্মরত শিক্ষকের বিরুদ্ধে গৃহশিক্ষকতা করার অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার (RTE) আইনেই উল্লেখ রয়েছে যে, কর্মরত স্কুলশিক্ষকেরা কোনওভাবেই ব্যক্তিগত টিউশন বা গৃহশিক্ষকতা করতে পারবেন না। যদিও অতীতেও এই বিষয়ে একাধিকবার সরকারি নির্দেশিকা জারি হয়েছে, তবুও অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই সেই প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।

সম্প্রতি এমন অভিযোগও সামনে এসেছে যে, কিছু শিক্ষক তাঁদের কাছে প্রাইভেট টিউশন না নিলে ছাত্রছাত্রীদের ‘অ্যাকাডেমিক কেরিয়ার’ ক্ষতিগ্রস্ত করার হুমকি দিয়েছেন। এই ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছে শিক্ষা দফতর। দফতরের বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের উপর কোনও ধরনের চাপ সৃষ্টি বা ভয় দেখানো কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।

তবে শিক্ষা দফতর স্পষ্ট করেছে, স্কুল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীদের জন্য আয়োজিত রিমেডিয়াল বা বিশেষ সহায়ক ক্লাসে কর্মরত শিক্ষকেরা পাঠদান করতে পারবেন। কারণ, এই ধরনের ক্লাস স্কুলের একাডেমিক উন্নয়নের অংশ।

অন্যদিকে, শিক্ষক সংগঠনগুলির একাংশের দাবি, শুধু নিষেধাজ্ঞা জারি করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো, শিক্ষার মান এবং পর্যাপ্ত একাডেমিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে অভিভাবকদের গৃহশিক্ষকের উপর নির্ভরশীলতাও অনেকটাই কমে আসবে। তাই শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নের দিকেও সরকারের সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মত শিক্ষকদের।সংক্ষিপ্ত সাব-হেডিং:
টিউশন না নিলে কেরিয়ার নষ্টের হুমকির অভিযোগ; তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে ডিআইদের নির্দেশ শিক্ষা দফতরের।






