
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক মিসাইল হামলার ফলে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় রায়গঞ্জে ক্রমশ বাড়ছে ইনডাকশন চুলোর চাহিদা। গ্যাসের অস্বাভাবিক দাম এবং সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে অনেকেই বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন বিদ্যুৎচালিত ইনডাকশন ওভেন।

রায়গঞ্জ শহরের থানা রোড, রাসবিহারী মার্কেট, বিবিডি মোড় চত্বরে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্সের দোকান এবং সারাই করার দোকান গুলোতে এখন ভিড় উপচে পড়ছে ইনডাকশন কেনা ও মেরামতির জন্য। রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দীপক বর্মন এদিন তাঁর ইনডাকশন চুলা মেরামত করতে এসে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমানো জরুরি হয়ে পড়েছে। ইনডাকশন ব্যবহার করলে খরচ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, তাই অনেকেই এই দিকে ঝুঁকছেন।”

অন্যদিকে, রসাখোয়ার গোবিন্দপুর থেকে আসা গৃহবধূ আয়েশা খাতুন দুইটি ইনডাকশন ওভেন মেরামতির জন্য দিয়ে বসেছিলেন দোকানে। তিনি জানান, “গ্যাসের দাম এতটাই বেড়েছে যে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই ইনডাকশন ব্যবহার করছি। বিদ্যুতের বিল বাড়লেও মোট খরচ তুলনামূলক কম পড়ছে।”

ইলেকট্রনিকসের ব্যবসায়ী সমীর সাহার কথায়, গত কয়েক সপ্তাহে ইনডাকশনের বিক্রি ও মেরামতির চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। অনেক জায়গায় নতুন ইনডাকশন চুলোর স্টকও দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানী সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে আগামী দিনে ইনডাকশন বা অন্যান্য বিদ্যুৎচালিত রান্নার সরঞ্জামের ব্যবহার আরও বাড়বে। তবে এর সঙ্গে বিদ্যুতের উপর চাপ বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সব মিলিয়ে, জ্বালানির অনিশ্চয়তা রায়গঞ্জের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে বিকল্প ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকে পড়াই এখন প্রধান ভরসা।






