Explore

Search

November 2, 2026 12:54 pm

IAS Coaching

মা আসছে, নারী শক্তি জাগরণের বার্তা দিতে প্রস্তুত রূপাহার যুব সংঘ

#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ আশ্বিন মাসের বাতাসে ঢাকের আওয়াজ, কাশফুলের দোলা, আর অজস্র মানুষের প্রাণে ভর করে একটাই অনুভূতি—“মা আসছেন”। শুধু আনন্দ নয়, মাতৃশক্তির আরাধনায় এবার এক ভিন্ন আবেগ জুড়ে দিতে চলেছে রূপাহার যুব সংঘ। সমাজে নারী শক্তির প্রতি অবহেলা, অবমাননা আর অবজ্ঞাকে যেনো প্রতিহত করতে চাইছে এই পূজা কমিটি।

রাজারামমোহন রায়ের সতীদাহ বিলুপ্তি আন্দোলন কিংবা বিদ্যাসাগরের বিধবা বিবাহ প্রচলনের মতো ঐতিহাসিক সংগ্রাম যেমন সমাজে নারীর মর্যাদা ফিরিয়ে এনেছিল, তেমনই আজকের দিনে নতুন করে নারীর নিরাপত্তা আর সম্মান রক্ষার বার্তা নিয়ে এগিয়ে আসছে এই পূজা। এবারের থিমের নাম দেওয়া হয়েছে “রত্নগর্ভা”—যেখানে মায়ের স্নেহ, শক্তি আর সৃষ্টিশীলতার মহিমা প্রতিফলিত হবে প্রতিটি বাঁশ, কাঠ আর রঙে।

প্লাইউডের বিশাল প্যান্ডেল থেকে চন্দননগরের ঝলমলে আলো, ভানু পালের মাটির প্রতিমা থেকে কাটোয়ার শিল্পসজ্জা—সব মিলিয়ে রূপাহারের মাঠে যেন এক অন্য রকম জাগরণ। পুজো কমিটির সম্পাদক পলাশ বিশ্বাস আবেগঘন কণ্ঠে বললেন, “আমরা চাই এই পূজা শুধু আনন্দের নয়, নারীর প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধার এক নতুন ইতিহাস লিখুক।”

এই পুজোর সূচনা হবে মহালয়ার দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে। তৃতীয়ার দিনে থাকছে বিশেষ সামাজিক কর্মসূচি—দুঃস্থদের বস্ত্র বিতরণ এবং ছাত্রছাত্রীদের হাতে বই-খাতা তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা। পঞ্চাশোর্ধ্ব বছর ধরে এই পূজা একতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। হিন্দু-মুসলিমসহ সমস্ত ধর্মের মানুষ সমানভাবে উপভোগ করেন এই উৎসব। পুজো কমিটির সদস্য শায়েস্তা আবেদিন বললেন, “এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য—আমাদের পূজা সকলের পূজা।”

এখন চারদিকে শুধু ব্যস্ততার আমেজ। সভাপতি সঞ্জয় মিত্র, সম্পাদক সুব্রত চন্দ, সদস্য মানস চন্দসহ উদ্যোক্তারা দিন-রাত এক করে দিচ্ছেন। তাঁদের চোখেমুখে একটাই দীপ্তি—মায়ের আগমনে নারীশক্তির জাগরণকে প্রাণে-প্রাণে ছড়িয়ে দেওয়া। মা আসছেন… আলো আসছে… আর তার সঙ্গেই আসছে সম্মান, শ্রদ্ধা আর ভরসার নতুন বার্তা।

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja