
#আনন্দ ব্যানার্জী, কলকাতা: এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু ২০২৬-২৭-এর গ্রুপ ডি-র চতুর্থ ম্যাচে শেষ মুহূর্তের জোড়া গোলে ইস্টবেঙ্গল এফসি-কে ২-০ ব্যবধানে হারাল ওমানের আল সিব ক্লাব। মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এই পরাজয়ের ফলে নকআউট পর্বে ওঠার আশা বড়সড় ধাক্কা খেল লাল-হলুদের। চার ম্যাচে মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের একেবারে তলানিতে নেমে গেল ইস্টবেঙ্গল। অন্যদিকে, এই জয়ের সুবাদে চার পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এল আল সিব। সাত পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে আল শর্টা এসসি এবং পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আল হুসেইন। এ দিন সন্ধ্যায় জর্ডনে মুখোমুখি হওয়ার কথা এই দুই দলের।

ম্যাচের প্রথমার্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি কোনও দল। বরং শুরু থেকেই আক্রমণে ঝড় তোলে ঘরের মাঠে খেলা ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বিপিন সিং-এর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এরপর অধিনায়ক মহম্মদ রশিদের সঙ্গে দারুণ পাসের আদানপ্রদানের পর ড্যানি রামিরেজের নিচু শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

১৭ মিনিটে চোট পেয়ে ডিফেন্ডার অনোয়ার আলিকে মাঠ ছাড়তে হলেও আক্রমণের ঝাঁজ কমেনি লাল-হলুদের। এডমন্ড লালরিনডিকা বেশ কয়েকবার প্রতিপক্ষ রক্ষণে চাপ তৈরি করেন। বিপিনের ক্রস থেকে রামিরেজের হেডও অল্পের জন্য লক্ষ্যে পৌঁছয়নি।

ম্যাচের আধ ঘণ্টা পেরনোর পর ধীরে ধীরে খেলায় ফেরে আল সিব। আবদুল আজিজ আল মাকবালির বাড়ানো বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন গ্যাবনের স্ট্রাইকার অ্যাক্সেল মেইয়ে। তবে তাঁর নিচু শট সহজেই আটকে দেন ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক ফুরবা লাচেনপা। ৩৯ মিনিটে লালরিনডিকার ক্রস নিয়ন্ত্রণে এনে ফের সুযোগ পেয়েছিলেন রামিরেজ। কিন্তু তাঁর শট দূরের পোস্টের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। ফলে গোলশূন্য অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী মেজাজে মাঠে ফেরে ওমানের দল। ৪৯ মিনিটে কর্নার থেকে মহম্মদ আল মুসালামির বাড়ানো বলে মেইয়ের হেড অল্পের জন্য ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়। ৫৫ মিনিটে সন্দীপ মান্ডির ক্রস থেকে হেড করে জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেন লালরিনডিকা। কিন্তু তাঁর প্রচেষ্টাও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কিছুক্ষণ পর দূরপাল্লার শটে গোলের চেষ্টা করেন অগাস্টিন ওলাদাপো। তাঁর শট ডান পোস্টের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।

ক্রমশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে শুরু করে আল সিব। ৭৬ মিনিটে বক্সের মধ্যে থেকে ওমর আল মালকির জোরালো শট অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় আটকে দেন লাচেনপা। ফিরতি বলেও গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন আল মালকি, কিন্তু তাঁর দ্বিতীয় প্রচেষ্টা অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়।

অবশেষে ৮৫ মিনিটে আল সিবের হয়ে গোলের দরজা খুলে দেন অ্যাক্সেল মেইয়ে। হাসান আল আজমির ফিরিয়ে দেওয়া বল পেয়ে নিজের ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুরন্ত গতিতে শট নেন তিনি। বল ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষককে কার্যত দাঁড় করিয়ে রেখে জালে জড়িয়ে যায়। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা করলেও আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি লাল-হলুদ।

এরপর সংযুক্ত সময়ের প্রথম মিনিটেই ইস্টবেঙ্গলের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন জাহির আল আগবারি। বাঁ দিক থেকে মেইয়ের বাড়ানো লম্বা ক্রস ধরে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোলে পরিণত করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আল সিব। আর ঘরের মাঠে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট হারিয়ে নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়ল ইস্টবেঙ্গল।



