
#শুভজিৎ দাস, রায়গঞ্জ, উত্তর দিনাজপুর: অবশেষে উত্তর দিনাজপুর জেলা কংগ্রেসে ২৬ বছরের মোহিত যুগের অবসান। সংগঠন সৃজন অভিযানের মধ্য দিয়ে রাজ্যজুড়ে সাংগঠনিক রদবদলের পথে হেঁটেছে জাতীয় কংগ্রেস। সেই রদবদলের আওতায় উত্তর দিনাজপুর সহ বেশ কয়েকটি জেলায় জেলা সভাপতি পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এআইসিসির পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়েছে নবনির্বাচিত সভাপতিদের নাম। সেই তালিকায় উত্তর দিনাজপুরের নতুন জেলা সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তুষার কান্তি গুহ।

রায়গঞ্জ ইউনিভার্সিটি কলেজের ছাত্র পরিষদ থেকেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি তুষারের। রাজনৈতিক মহলে তিনি পরিচিত মোহিত সেনগুপ্তের ভাবশিষ্য হিসেবে। দীর্ঘদিন ধরে জেলা কংগ্রেসের অন্যতম মুখ হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। এবার সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে গুরুর দেখানো পথেই দলকে শক্তিশালী করা এবং সংগঠনকে নতুন করে সাজানোই তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এদিকে জেলা সভাপতি পরিবর্তনকে ঘিরে জেলা কংগ্রেসের অন্দরে বিতর্কও তৈরি হয়ে ছিল। কয়েকজন বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস কর্মী প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা রায়গঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন।এই বিতর্ক প্রসঙ্গে স্পষ্ট জবাব দিয়েছেন নবনির্বাচিত সভাপতি তুষার কান্তি গুহ। তাঁর বক্তব্য, “আগে দল, পরে কর্মী। দলের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।” যারা মোহিত সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলছেন, তাদের কংগ্রেস করার যৌক্তিকতা নিয়েও পাল্টা প্রশ্ন তোলেন তিনি। মানতে নারাজ যে মোহিত যুগের অবসান হয়েছে।

আসন্ন রায়গঞ্জ পৌরভোট নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তুষার বাবু। তিনি জানান, দেশজুড়ে বিজেপির বিকল্প একমাত্র জাতীয় কংগ্রেস এবং নেতা রাহুল গান্ধী। রায়গঞ্জে পৌরভোটে মোহিত সেনগুপ্তকেই মুখ করে লড়াই করবে কংগ্রেস। তাঁর দাবি, “যদি স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন হয়, তবে রায়গঞ্জ পৌরসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসবে কংগ্রেস।”








