
#কাঠমান্ডু: প্রায় ছয় দিন বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে নিখোঁজ থাকার পর অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার হওয়া নেপালি পর্বতারোহী ও অভিজ্ঞ পর্বত-গাইড দাওয়া শেরপা এবার জানালেন তাঁর বেঁচে ফেরার রুদ্ধশ্বাস কাহিনি। হাসপাতালের শয্যা থেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৫২ বছর বয়সী দাওয়া শেরপা বলেন, “আমি বিশ্বাসই করিনি যে আমি বেঁচে ফিরতে পারব।”

গত ২৯ মে এভারেস্ট থেকে নামার সময় আচমকাই ফুরিয়ে যায় তাঁর অক্সিজেনের মজুত। উচ্চতাজনিত চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তিনি সঙ্গীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন ক্যাম্প-৩-এর উপরে। এরপর শুরু হয় মৃত্যুর সঙ্গে এক অসম লড়াই।

দাওয়া জানান, টানা দু’দিন তাঁর কাছে কোনও খাবার ছিল না। পানীয় জলও ছিল না। বেঁচে থাকার জন্য মুখে বরফ গলিয়ে জল হিসেবে গ্রহণ করেন তিনি। সঙ্গে থাকা অল্প কিছু চকোলেট অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ভাগ করে খেয়ে দিন কাটান। তীব্র ঠান্ডা, অক্সিজেনের অভাব এবং একাকীত্বের মধ্যে প্রতিটি মুহূর্ত ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা।

অবশেষে ৫ জুন খুম্বু আইসফলের ক্র্যাম্পন পয়েন্টের কাছে তাঁকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পান উদ্ধারকারীরা। তখন তিনি ধীরে ধীরে নিচের দিকে হামাগুড়ি দিয়ে নামার চেষ্টা করছিলেন। উদ্ধারকারী দল দ্রুত তাঁকে হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুর হাসপাতালে নিয়ে যায়।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবে দুই হাতের আঙুলে হিমশীতল আবহাওয়ার কারণে ফ্রস্টবাইটের সমস্যা দেখা দিয়েছে।

দাওয়া শেরপার এই অবিশ্বাস্য বেঁচে ফেরাকে পর্বতারোহণ জগতের অন্যতম বিস্ময়কর ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল এবং অভিজ্ঞ পর্বতারোহীদের মতে, এভারেস্টের মতো প্রতিকূল পরিবেশে প্রায় এক সপ্তাহ একা বেঁচে থাকা মানব সহনশীলতা ও মানসিক শক্তির এক বিরল উদাহরণ।

পর্বতপ্রেমীদের কাছে এখন দাওয়া শেরপা শুধু একজন উদ্ধারপ্রাপ্ত পর্বতারোহী নন, বরং অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও জীবনের প্রতি লড়াইয়ের এক অনুপ্রেরণার নাম।




