Explore

Search

May 19, 2026 11:25 am

IAS Coaching

সর্বশক্তি দিয়ে মানুষের জন্য কাজ করেও পাইনি সম্মান, রাজনীতি ছেড়ে কাজে ফিরছেন বড়ুয়ার প্রধান ভবানন্দ বর্মন

#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ “সাধারণ মানুষের জন্য সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করেছি। সরকারি সাহায্যের বাইরে নিজের উপার্জনের টাকাতেও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু গত বিধানসভার ভোটে তার প্রতিদান পাইনি।” রবিবার দুপুরে হতাশ গলায় এমনই মন্তব্য করলেন ১২ নম্বর বড়ুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ভবানন্দ বর্মন। তাই হতাশ হয়ে নিজের পেশায় ফিরছেন বড়ুয়ার প্রধান ভবানন্দ বাবু। ইতিমধ্যে শুরুও করে দিয়েছেন পুরনো পেশা।

কালিয়াগঞ্জের বড়ুয়া অঞ্চলের পরিচিত মুখ ভবানন্দ বর্মনের পরিবারে রয়েছেন মা, বাবা, স্ত্রী ও সন্তান। তাঁর বাবা পুরোনো দিনের রাজনৈতিক কর্মী বলেই পরিচিত এই এলাকায়। দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ভবানন্দের দাবি, মানুষের জন্য নিরলস কাজ করলেও বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মানসিক চাপে, তিনি আর আগের মতো আগ্রহ পাচ্ছেন না।

ভবানন্দ বর্মন বলেন, “তৎকালীন বিধায়ক সৌমেন রায়ের ভুল পরামর্শে রাজনৈতিক জীবনে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক রাজ্য রাজনীতিতে নানা উলটপালটের ফলে দল ক্ষমতায় থাকলেও কাজ করার ক্ষেত্রে মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে নিজের আর ভালো লাগছে না।”

তিনি আরও জানান, বড়ুয়া অঞ্চলে প্রায় ৮ হাজার ভোটে পিছিয়ে পড়ার পর থেকেই রাজনৈতিকভাবে হতাশা আরও বেড়েছে। তাঁর কথায়, “মানুষের জন্য প্রচুর কাজ করেছি। অনেককে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সহায়তা করেছি। তবুও যে সম্মান পাওয়ার কথা ছিল, তা পাইনি।”

বর্তমানে তিনি ধীরে ধীরে নিজের পুরোনো পেশাগত কাজে ফিরে যাচ্ছেন বলেও জানান। ভবানন্দ বলেন, “আমাদের বাড়িতে গ্যাসের সাব-ডিলারশিপ রয়েছে। সেই কাজ এখন দেখাশোনা করছি। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন মাছের হ্যাচারিতে আগে যেমন পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করতাম, আবার সেই কাজ শুরু করেছি।”

নিজের কাজের ধরণ নিয়েও এদিন আবেগঘন মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর কথায়, “প্রধান হওয়ার পর কোনোদিন কাঠের বড় চেয়ারে বসিনি। সাধারণ প্লাস্টিকের চেয়ারেই বসে কাজ করেছি। নিজে কম্পিউটারে বসে মানুষের আবেদনপত্র লিখে দিয়েছি, নানা কাজ করে দিয়েছি। কিন্তু আজ আমি একেবারে হতাশ।”

ভবিষ্যতে রাজনৈতিক জীবনে অন্য কোনো দলে যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু না বললেও ৩৫ বছর বয়সী ভবানন্দ বর্মনের বক্তব্য, আপাতত তিনি রাজনীতির চেয়ে নিজের কাজ ও পরিবারকেই বেশি সময় দিতে চান।

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja