
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা, তবে তার ছাপ নেই রায়গঞ্জের চায়ের দোকানগুলিতে। একসময় যেখানে চায়ের কাপে ঝড় উঠত রাজনীতি নিয়ে, সেখানে এখন অদ্ভুত নীরবতা। প্রকাশ্যে উত্তাপ না থাকলেও, ভেতরে ভেতরে চলছে চাপা উত্তেজনা। শহরের প্রতি মোড়ে থাকা চায়ের দোকান গুলোতে বেশিরভাগ মানুষ ভোট নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন।

এবারের নির্বাচনে মূল লড়াইয়ে রায়গঞ্জে রয়েছেন একাধিক পরিচিত মুখ। ঘাসফুল চিহ্নে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন গতবারের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যানী। অন্যদিকে, হাত চিহ্ন নিয়ে জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী প্রাক্তন বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত। বিজেপির তরফে পদ্মফুল প্রতীক নিয়ে প্রথমবার ভোটযুদ্ধে নেমেছেন কৌশিক চৌধুরী। বাম শিবিরে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সিপিএমের নিজস্ব প্রতীক কাস্তে-হাতুড়ি-তারা নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছেন জীবানন্দ সিংহ। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের দাবিকে সামনে রেখে সপ্রতিভ চক্রবর্তীও নির্বাচনী ময়দানে সক্রিয়।

এবার ভোটদান করবেন রায়গঞ্জ পুরসভার পাশাপাশি ১ ও ২ নম্বর কমলাবাড়ি, ৮ নম্বর বাহিন, ৯ নম্বর গৌরী এবং ১০ নম্বর মাড়াইকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোটাররা। সব মিলিয়ে ভোটের অঙ্ক যথেষ্ট জটিল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিতে দেখা গেলেও, ভোট নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছেন অনেকেই। এক চা বিক্রেতার কথায়, “আগের মতো আর খোলাখুলি তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে না। সবাই নিজের মত চেপে রাখছে, ভোটের দিনেই আসল কথা বোঝা যাবে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, প্রকাশ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ কম থাকলেও, ঘরে ঘরে চলছে জোর আলোচনা। কে জিতবে, কোন দলের পাল্লা ভারী—তা নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে। সব মিলিয়ে রায়গঞ্জে ভোটের আবহ এবার যেন নীরব কিন্তু তীক্ষ্ণ। বাইরে শান্ত, কিন্তু ভিতরে ভিতরে জমে উঠছে নির্বাচনী লড়াইয়ের উত্তাপ। এখন দেখার, এই চাপা উত্তেজনার ফলাফল ভোটবাক্সে কীভাবে প্রতিফলিত হয়।






