
#আনন্দ ব্যানার্জী, কলকাতা: শেষ মুহূর্তের বদলি খেলোয়াড় রেই তাচিকাওয়ার দুর্দান্ত গোলেই নাটকীয় প্রত্যাবর্তন সম্পূর্ণ করল জামশেদপুর এফ সি। ইন্ডিয়ান সুপার লিগ ২০২৫-২৬ মরশুমের ম্যাচ ১৬-এ কলকাতার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ইস্ট বেঙ্গল এফ সি-কে ২-১ গোলে পরাজিত করল জামশেদপুর।

এই জয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো পূর্ণ তিন পয়েন্ট সংগ্রহ করে তিন ম্যাচে নয় পয়েন্ট নিয়ে আপাতত লিগ তালিকার শীর্ষে উঠে গেল জামশেদপুর। অন্যদিকে, ছয় পয়েন্টে থাকা ইস্ট বেঙ্গল এই মরশুমে প্রথম পরাজয়ের মুখ দেখল। ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন স্টিফেন এজে। ইস্ট বেঙ্গলের প্রধান কোচ অস্কার ব্রুজোন তাঁর প্রথম একাদশে একটি পরিবর্তন করেন—নন্দ কুমারের পরিবর্তে দলে নেন অ্যান্টন সোজবার্গকে। জামশেদপুরের কোচ ওয়েন কয়েলও একটি বদল করেন, ঋত্বিক কুমার দাসের জায়গায় শুরু থেকেই সুযোগ দেন ভিন্সি ব্যারেটো।

ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল উচ্চ গতিতে খেলতে থাকে। তৃতীয় মিনিটেই মিগুয়েলের সেট-পিস থেকে জয় গুপ্তার হেড অল্পের জন্য বার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। পাল্টা আক্রমণে রাফায়েল মেসি বৌলি মহম্মদ সানানের ক্রস থেকে বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়। প্রথমার্ধে আরও দু’বার অফসাইডে ধরা পড়েন মেসি বৌলি, ইস্ট বেঙ্গলের সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগের সামনে। ডান প্রান্ত দিয়ে ভিন্সি ব্যারেটো বারবার চাপ সৃষ্টি করেন এবং প্রভসুখন গিলকে একবার সেভ করতে বাধ্য করেন। অন্যদিকে মাদিহ তালালের দূরপাল্লার শট অনোয়ার আলি ব্লক করেন। সেট-পিস থেকেও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে ইস্ট বেঙ্গল—আনোয়ার ও সোজবার্গ দু’জনেই হেড থেকে গোলের কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে চাপ বাড়ালেও ৪০ মিনিটে এগিয়ে যায় ইস্ট বেঙ্গল। বাঁ দিক থেকে থ্রো-ইনের পর বিপিন সিংয়ের ক্রসে এডমুন্ড লালরিন্দিকা দক্ষতার সঙ্গে মার্কারকে ফাঁকি দিয়ে ডান পায়ের শটে বল জড়ান জালের বাঁ দিকের নিচের কোণে, গোলরক্ষক আলবিনো গোমেসকে পরাস্ত করে। বিরতির আগে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পান মিগুয়েল, কর্নার থেকে ইউসুফ এজেজ্জারির হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয়ার্ধে আরও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে শুরু করে জামশেদপুর। ৫৫ মিনিটে বৌলির হেড অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন গিল। কিছুক্ষণ পর তালালের ফ্রি-কিকও পরীক্ষা নেয় ইস্ট বেঙ্গল গোলরক্ষকের। অবশেষে ৬১ মিনিটে সমতা ফেরায় জামশেদপুর—নিকোলা স্তোয়ানোভিচের কর্নার থেকে স্টিফেন এজে তার শক্তিশালী হেডে বল জড়ান ডানদিকের ওপরের কোণে। এরপর ম্যাচ আরও খোলা হয়ে যায়। দুই দলই জয়ের গোলের সন্ধানে মরিয়া হয়ে ওঠে। ৬৯ মিনিটে ব্রুজোন একাধিক বদলি করে আক্রমণে নতুন শক্তি যোগ করার চেষ্টা করেন। তবে জামশেদপুরের রক্ষণভাগ দৃঢ় থাকে।

৮৪ মিনিটে কয়েলের কৌশলগত পরিবর্তনই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বদলি হিসেবে নামা রেই তাচিকাওয়া সঙ্গে সঙ্গেই প্রভাব ফেলেন। ৮৭ মিনিটে সানানের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং পরে তালালের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে বক্সের বাঁ দিক থেকে দুর্দান্ত কার্লিং শটে বল জড়ান ডানদিকের ওপরের কোণে—জামশেদপুরকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন জাপানি মিডফিল্ডার। স্টপেজ টাইমে সমতা ফেরাতে মরিয়া চেষ্টা চালায় ইস্ট বেঙ্গল। আনোয়ার আলির হেড বাঁচান গোমেস, তবে শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে নেয় জামশেদপুর।






