
চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ দক্ষিণ ভারতের এক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে উঠে আসা ‘নো ব্যাকবেঞ্চার্স’ শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের নিদর্শন এবার মিলল উত্তর দিনাজপুরেও। জেলার ইটাহার, গোয়ালপোখর সহ কয়েকটি ব্লকের সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হল এই নতুন ব্যবস্থা। আর তাতেই খুশির হাওয়া বইছে পড়ুয়া, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে।

‘নো ব্যাকবেঞ্চার্স’ মানে আর কেউ পিছনের বেঞ্চে বসে পড়া থেকে আলাদা হয়ে যাবে না। এই নীতির মূলে রয়েছে সবাইকে সামনে টেনে আনা, সক্রিয়ভাবে পাঠগ্রহণে যুক্ত করা এবং পিছনের বেঞ্চে বসে অলসতা কিংবা বিমুখতার প্রবণতা দূর করা।

চালুনিয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক পার্থ সারথী মিত্র বলেন, “পিছনের সারিতে আর কেউ নয়। প্রতিদিন বেঞ্চ বদলের মাধ্যমে সবাই যেন সামনের সারিতে বসে শেখার সুযোগ পায়, সেই ব্যবস্থাই আমরা করেছি। ছাত্র-ছাত্রীরা বিষয়টি উৎসাহের সঙ্গে গ্রহণ করেছে। তাদের চোখেমুখে নতুন আগ্রহ দেখতে পাচ্ছি।”


জিনগাঁও টি এন এম স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক ব্যোমকেশ বর্মন বলেন, আমরাও বৃহস্পতিবার থেকে কিছু ক্লাসে এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে শুরু করেছি। এতে পড়ুয়াদের মধ্যে ভীষণ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এতে ওরা অনেক বেশি সাবলীল বলে মনে হল।

শুধু পড়ুয়ারাই নয়, এই ব্যবস্থায় খুশি অভিভাবকেরাও। তাঁদের কথায়, আগে সন্তানদের কাছ থেকে শুনতেন ‘আমি পিছনে বসি’, এখন তারা গর্ব করে বলছে, ‘আজ আমি সামনের বেঞ্চে বসেছিলাম’—এ যেন এক ইতিবাচক মানসিক পরিবর্তন।
এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন উত্তর দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন আলি। তিনি জানান, “শিক্ষায় অংশগ্রহণমূলকতা বাড়াতে এমন ব্যবস্থা অত্যন্ত ইতিবাচক। প্রয়োজনে জেলাজুড়ে এই নীতি চালু করার দিকেও আমরা ভাবতে পারি।”
শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন পরিবর্তন শুধু শৃঙ্খলাই নয়, ছাত্রদের আত্মবিশ্বাস ও আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক হবে বলেই মনে করছেন শিক্ষাবিদরাও। ‘নো ব্যাকবেঞ্চার্স’ নীতির সফল প্রয়োগ একদিন হয়তো গোটা বাংলার শিক্ষাক্ষেত্রেই পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে আসবে।



