Explore

Search

October 24, 2026 3:03 pm

IAS Coaching

ডায়াবেটিস আছে বলে কি পুজোতে উপোস করবেন না?

নিউজ বৃত্তান্তের জন্য কলম ধরলেন,রায়গঞ্জ সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ দেবব্রত রায়

পুজো একবারে দোরগোড়ায়। শাস্ত্র অনুযায়ী পুজোর আচার বিচারে চাই কঠিন নিয়ম নিষ্ঠা। উপোস থেকে পূজোর জোগাড় যন্ত্র করতে হবে, ঠাকুরের ভোগ রান্না করতে হবে, অঞ্জলি দিতে হবে, শুদ্ধ বস্ত্র পরে নাড়ু, মোয়া, তিলতক্তি,মুড়কি বানাতে হবে। এমনই আরো কত কি! এই সবের অনেক পর্যায়েই থাকে উপোস থাকার বিধান।কখনও কখনও তো আবার হয় নির্জলা উপোস। সমস্যাটা হয় যারা ডায়াবেটিস এ ভোগেন তাদের নিয়ে।

উপবাস করবেন কি করবেন না – সেই প্রশ্ন টা তাঁদের ক্ষেত্রে বড় হয়ে দাঁড়ায়।
কারণ উপোসের কারনে তাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাবার একটা আশঙ্কা থাকে। ডাক্তারি শাস্ত্রমতে কারো রক্তে শর্করার মাত্রা ৭০ গ্রাম/ ডেসিলিটার এর নীচে নেমে গেলে তাকে ‘হাইপোগ্লাইসিমিয়া ‘ বলে এবং এটি একটি জরুরি/ আপৎকালীন স্বাস্থ্য সমস্যা। সংগে সংগে ব্যবস্থা না নিলে এমনকি প্রাণ সংশয়ও হতে পারে। সাধারণত যাঁরা ডায়াবেটিস এর জন্য ওষুধ খান না বা ইনসুলিন ইনজেকশন নেন না তাঁদের সচরাচর হাইপোগ্লাইসিমিয়া হয়না। কেবল যাঁরা ডায়াবেটিসের ওষুধ নেন তাঁদের ক্ষেত্রেই এই সমস্যাটি দেখা যায়।

কি করে বুঝবেন যে আপনি হাইপোগ্লাইসিমিয়ার শিকার হয়েছেন –
প্রাথমিক পর্যায়ে অতিরিক্ত ঘাম হয়। কোনো কাজ করতে ভয় ভয় লাগে। মাথা ঘুরে। দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে যায়। নাড়ির গতি ভয়ানক রকম বেড়ে যায়।। অকারণে বা অল্প কথাতেই রেগে যায়।। হঠাৎ করে ক্ষিদে বেড়ে যায়। মাথাব্যথা হয়।কিছুতেই মনোসংযোগ করা যায়না । ঠোঁট ও হাতের আঙুলগুলো একটু একটু কাপতে থাকে।
হাইপোগ্লাইসিমিয়ার তীব্রতা আরও বাড়লে কথা জড়িয়ে আসে। এমনকী খিঁচুনিও হতে পারে।এই অবস্থায় কোনো ব্যবস্থা না নিলে এটা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে গিয়ে এমনকি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। সাধারণ মানুষ এটাকে স্ট্রোক বা মৃগী রোগ বলে ভুল করে।

এমনটা হলে অবশ্য ভয়ের কিছু নেই। প্রাথমিক পর্যায়ের উপসর্গ দেখামাত্র সতর্ক হয়ে ব্যবস্থা নিলে ভয়ানক পরিণতি এড়ানো যেতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন সচেতনতা এবং সতর্কতা। পুজোতে ডায়াবেটিস রোগীরা কখনোই নির্জলা উপবাস করবেন না। মিষ্টি শরবত তাঁদের চলবে না ঠিকই তবে সামান্য লবণ দিয়ে লেবুজল হতে পারে উপযুক্ত পানীয়। এক গ্লাস জলে আধা চামচ লেবুর রস, সংগে এক চিমটি নুন অপনাকে উপবাসজনিত ডিহাইড্রেশন হতে দেবে না।

উপবাস শুরুর আগেই বাড়িতেই গ্লুকোমিটার দিয়ে আপনার রক্তের শর্করার তাৎক্ষণিক মাত্রা জেনে নিন।এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সুগারের ওষুধের বা ইনসুলিনএর মাত্রা এডজাস্ট করে নিন।এতে হাইপোগ্লাইসিমিয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে। সেরকম হলে উপোস শুরুর আগে একটু কিছু খাবার খেয়ে নিতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন যেন সেটা আবার অতিরিক্ত পরিমাণে না হয়ে যায়। সেটা আবার ঝট করে রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে বিপত্তি ঘটাতে পারে। নির্জলা উপবাস করলে শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দেয়। ফলস্বরূপ রক্তে শর্করার আপেক্ষিক ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় ফলে হাইপোগ্লাইসিমিয়া না ঘটে তার বিপরীত পরিস্থিতিও হতে পারে।

কিভাবে সাবধান থাকবেন–
• হ্যান্ডব্যাগ, পকেট অথবা নিদেনপক্ষে শাড়ির আঁচলের খুঁটে ক্যাডবেরী বা চকোলেট জাতীয় মিষ্টি খাবার রাখুন।
•উপরে উল্লিখিত কোনো একটি শারীরিক সমস্যা অনুভূত হলেই একটা মুখে পুরে দেবেন।
• সংগে নেবেন এক গ্লাস জল। এতে শর্করার শোষণ তাড়াতাড়ি হবে। এবং দ্রুত উপসম মুক্ত হবেন।
• সংগে সেরকম কিছুই না থাকলেও চিন্তাগ্রস্ত হবেন না।
হাতের কাছে যা পাবেন – মন্ডা, মিঠাই, ফলের রস, বা মিষ্টি ফল যাইই পাবেন তাইই মুখে পুরে দিন।

ডায়াবেটিস রোগীদের কখন উপবাস একেবারেই নিষিদ্ধ —
• যাঁদের ডায়াবেটিস এর সংগে হার্ট বা কিডনির অসুখে আছে। অথবা হাঁপানি জাতীয় অসুখ আছে।
• যাঁদের সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে না এবং মাঝে মাঝেই কম বেশী হয়।
•যাঁদের ইতিপূর্বেই কখনো হাইপোগ্লাইসিমিয়া হয়ে অজ্ঞান হবার মত ঘটনা ঘটেছে। এইসব সমস্যার সম্ভাবনা থাকলেও যাঁরা উপবাসে আগ্রহী হবেন তাঁরা অবশ্যই পুজোর ঠিক আগে আগেই রক্তের সুগারের মাত্রা পরীক্ষা করিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধের মাত্রা ঠিকঠাক করিয়ে নেবেন। একই সঙ্গে হার্ট এবং কিডনির টেস্ট ও করিয়ে নেওয়া ভালো।

এটা যেমন জরুরী তেমনি প্রয়োজন ঘড়ির সময় ধরে নিজস্ব রুটিনে খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা রাখা।
দুইটি খাওয়া দাওয়ার সময়ের মধ্যে যেন অস্বাভাবিক ব্যবধান না থাকে। সুতরাং ডায়াবেটিস রোগীরা পুজোতে নিয়ন্ত্রিত উপবাস করতেই পারেন। তবে নিয়ম মেনে এবং সাবধানে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja