
#মালবাজার: পুজোর আগে সম্পূর্ণ বোনাস একসঙ্গে দেওয়ার দাবিতে সরব শ্রমিকরা, ঘটনাস্থলে মালবাজার থানার পুলিশ
পুজোর মুখে ২০ শতাংশ বোনাস একসঙ্গে দাবিতে আন্দোলনে নামলেন নিউ গ্ল্যাঙ্কো চা বাগানের শ্রমিকরা। শনিবার সকাল থেকেই মালবাজারের নিউ মালে রাঙামাটি রেলওয়ে ওভারব্রিজের সামনে ১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন শ্রমিকরা। তাঁদের দাবি, পুজোর আগে সম্পূর্ণ ২০ শতাংশ বোনাস দিতে হবে। এই অবরোধের জেরে জাতীয় সড়কে যান চলাচল অবরুদ্ধ হয়ে যায় । বহু যানবাহন দুপাশে আটকা পড়ে।

জানা গেছে , বাগান কর্তৃপক্ষের তরফে দুই কিস্তিতে বোনাস দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী, পুজোর আগে ১২ শতাংশ এবং পরবর্তী সময়ে হোলির সময় বাকি ৮ শতাংশ বোনাস দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষের এই প্রস্তাবে রাজি নন শ্রমিকরা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, বকেয়া ৮ শতাংশ পরে নয়, পুজোর আগেই সম্পূর্ণ ২০ শতাংশ বোনাস মিটিয়ে দিতে হবে।

অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের তরফে পুজোর বোনাস পুজোর আগেই দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে বলে দাবি উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষের দুই কিস্তিতে বোনাস দেওয়ার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বেড়েছে। নিজেদের দাবিতে অনড় থেকেই এদিন জাতীয় সড়ক অবরোধের পথ বেছে নেন তাঁরা।

অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মালবাজার থানার পুলিশ বাহিনী। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালায়। তবে শ্রমিকরা কোন প্রকার লিখিত আশ্বাস তাদের দাবীতে অনড় থাকে।

দীর্ঘ ক্ষন অবরোধ চলার পর মাল থানার পুলিশ আধিকারিক চাবাগানে গিয়ে বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন।অবশেষে চা বাগান ম্যানেজার
আগামী ১৬ অক্টোবর ২০% বোনাস একসঙ্গে দেবে লিখিত আশ্বাস দেয়। পুলিশ সেই আশ্বাস নিয়ে এসে শ্রমিকদের দেখালে শ্রমিকদের ক্ষোভ প্রশমিত হয় এবং দুপুর প্রায় বারোটা নাগাদ তারা পথ অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে অবরোধ চালায় জাতীয় সড়কে প্রচুর যানবাহন আটকা পড়ে। অবরোধ উঠে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

উল্লেখ্য, রাজ্য সরকার ২০% হারে বোনাস দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেও এখনো পর্যন্ত কয়েকটি চা বাগান সেই হারে বোনাস দেওয়ার ক্ষেত্রে তালবাহানা করছে এবং শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে পথ অবরোধের পথ বেছে নিচ্ছে। এই প্রবণতা তৈরি হওয়ার পর জাতীয় সড়কে যানবাহন চলাচলের সমস্যা তৈরি করছে।




