
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ গবেষণা ও প্রকাশনার ক্ষেত্রে ফের নজর কাড়ল রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক অধ্যাপক ও গবেষক আন্তর্জাতিক স্তরের Top1000 Scholar / Scholarly Index-এর তালিকায় জায়গা করে নেওয়ায় উচ্ছ্বসিত বিশ্ববিদ্যালয় মহল। ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক ড. তমাল বসু রায়-এর প্রাপ্তি এই সাফল্যকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। প্রকাশিত শংসাপত্র অনুযায়ী, ‘Demographic Trends and Gender Preferences’ বিষয়ে ২০২১-২০২৫ সালের প্রভাব-পর্বে তাঁর World Rank 665 এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের World Top 1000-এর মধ্যে Rank 64।

শংসাপত্রে তাঁর Impact Score 42.65, Statistical Percentile Top 54.6 শতাংশ, Category h-index 2 এবং h-index 8 উল্লেখ রয়েছে। ‘Top1000 Scholar 2026’ সংস্করণের এই শংসাপত্রটি Scholarly Index Public Beta-র নামে প্রকাশিত হয়েছে।

শুধু ড. তমাল বসু রায় নন, রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. অমিত কুমার মণ্ডল, ড. প্রানতোষ পাল, ড. প্রদীপ কুমার দাস মহাপাত্র, ড. কৌশিক চক্রবর্তী-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক অধ্যাপক ও গবেষকের নামও এই ইনডেক্সের তালিকায় স্থান পেয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তালিকায় রয়েছেন তপন কুমার পাল, সৈকত মন্ডল, পার্থ দাস, তনু দাস, জয়ন্ত ভট্টাচার্য, দত্তাত্রেয় মুখার্জি, দীপাঞ্জন দাস, সুজয় মজুমদার, সুজিত সরকার, দেবাঞ্জন মিত্র, অর্ক প্রতীম চক্রবর্তী, অভীক চ্যাটার্জী, পার্থ নন্দী, দেবজিৎ দাস, লক্ষী নারায়ণ সাহু, প্রলয় মন্ডল, শাহীন হোসেন, আবদুল সাদাত, কে কে কুন্ডু সহ অনেকে। ফলে তুলনামূলকভাবে নবীন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা-পরিবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক গবেষণা সূচকে একাধিক গবেষকের উপস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, প্রকাশনা এবং একাডেমিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দিক। বিশেষ করে বিভিন্ন বিষয়ে গবেষকদের ধারাবাহিক প্রকাশনা এবং গবেষণার প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক একাডেমিক পরিচিতিকে আরও দৃশ্যমান করতে পারে।

রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধক ড. দূর্লভ সরকার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকদের এই ধরনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। গবেষণার পরিকাঠামো ও মানোন্নয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যক গবেষক আন্তর্জাতিক স্তরে জায়গা করে নেবেন বলে আমরা আশাবাদী।”

তবে এই সাফল্যের মধ্যেই সামনে আসছে অন্য একটি প্রশ্ন—গবেষণা ও একাডেমিক ক্ষেত্রে এমন স্বীকৃতি কি রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক মূল্যায়নে প্রভাব ফেলবে? বিশেষত, অতীতে NAAC মূল্যায়নে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার যে প্রসঙ্গটি বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে আলোচনায় এসেছিল, তার প্রেক্ষিতে গবেষণাক্ষেত্রে এই ধরনের সাফল্য নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।

যদিও কোনও একটি ইনডেক্সে র্যাঙ্ক পাওয়া এবং NAAC-এর মূল্যায়ন এক বিষয় নয়। NAAC-এর মূল্যায়নে শিক্ষা-পরিকাঠামো, পাঠদান, গবেষণা, প্রশাসন, ছাত্র-সহায়তা, পরিকাঠামো, উদ্ভাবন-সহ একাধিক সূচক বিবেচিত হয়। তাই এই সাফল্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাক্ষেত্রের শক্তির একটি দিক তুলে ধরলেও, NAAC-এর পরবর্তী মূল্যায়নে এর প্রকৃত প্রভাব কী হবে, তা নির্ভর করবে সামগ্রিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক মানদণ্ডের উপর।

ফলে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—গবেষণার আন্তর্জাতিক মঞ্চে একের পর এক স্বীকৃতি কি এবার রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক মূল্যায়নের ছবিটাও বদলাতে সাহায্য করবে? উত্তর মিলবে আগামী মূল্যায়নেই।



