
#মালবাজার: কন্যাশ্রী, রুপশ্রী, লক্ষীর ভান্ডার, জয় জোহার পেনশন সহ বিভিন্ন প্রকল্পের স্মারক সাজিয়ে জনজোয়ারে ভেসে মনোনয়ন জমা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মালবাজার ও নাগরাকাটা বিধানসভার দুই প্রার্থী। কংগ্রেস সহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও এদিন মনোনয়ন পত্র জমা দেন।

শনিবার ছিল মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার চতুর্থ দিন। শুক্রবার রাতে এক পশলা বৃষ্টি হওয়ার কারণে বাতাসের আদ্রতা ভালই ছিল। সেই সাথে ছিল তাপমাত্রার পারদের ঊর্ধ্বগতি। এসবের মাঝেই এদিন সকাল থেকেই একদিকে রাজা চা বাগানের মাঠে প্রার্থী তথা বিদায়ী মন্ত্রী বুলু চিক বাড়াইককে সামনে রেখে কর্মী সমর্থকরা ভীড় জমান। দলের মহিলা কর্মীরা বিভিন্ন প্রকল্পের স্মারক সাজিয়ে রীতিমতো শোভাযাত্রা শুরু করেন। অন্যদিকে এই মালবাজার কলোনির মাঠে বিভিন্ন এলাকা থেকে তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা সমবেত হন। বেলা বাড়তেই সেখানে হাজির হন নাগরাকাটা বিধানসভার প্রার্থী সঞ্জয় কুজুর।

বেলা এগারোটা বাজতেই দফায় দফায় শোভাযাত্রা শহর পরিক্রমা শুরু করে। ঢাক, দামামা, মাদল বাজিয়ে পরিক্রমা শুরু হয়। দুপুর একটা বাজতেই দুই প্রার্থী মহকুমা শাসকের দপ্তরের চলে আসেন। এর সঙ্গে ছিলেন জেলা সভানেত্রী মহুয়া ঘোষ সহ অন্যান্যরা। এরপর নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই মা তোমার শাসকের দপ্তরে গিয়ে দুই প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন।

মাল বিধানসভার প্রার্থী বুলু চিকবরাইক এদিন ছিলেন যথেষ্ট আত্মপ্রত্যয়ী। পরিষ্কার বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় মানুষের সমাগম দেখে আপনারা অনুমান করতে পারছেন ভোটের ফলাফল কি হবে। আগামী ২৩ তারিখ ভোট সেই দিন এই এলাকার মানুষ সমস্ত অপকৌশলের জবাব দেবে এবং ৪মে দেখা যাবে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়লাভ করছে।

তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়াও এদিন কংগ্রেসের দুই প্রার্থী মাল বিধানসভার রাকেশ হুজুর এবং নাগরাকাটা বিধানসভার সিনু মুন্ডা মনোনয়ন পত্র জমা দেন। দীর্ঘ কুড়ি বছর বাদে কংগ্রেস হাত চিহ্ন নিয়ে আবারো লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছে। এদিন দুই প্রার্থী রীতিমতো র্যালি করে এসে মনোনয়ন জমা দেন। কংগ্রেসের সংগঠন যে এখনো রয়েছে এদিন তা প্রমাণ হয়।

এছাড়াও এদিন এসইউসিআই দলের পক্ষ থেকে মাল বিধানসভার জন্য শিবনাথ ওরাও এবং নাগরা কাটা বিধানসভার জন্য ডাহারু ওরাও মনোনয়নপত্র জমা দেন। নির্দল প্রার্থী হিসেবে রাজা চা বাগানের বাসিন্দা মহিন্দার লোহরা।
এদিন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর অনুমান করা যায় মালবাজার এবং নাগরাকাটা বিধানসভায় লড়াই চতুর্মুখী হচ্ছে। তবে প্রচারের ধারে ও ভারে তৃণমূল কংগ্রেস খানিকটা এগিয়ে রয়েছে বলা যায়।






