
আতঙ্কের কারণ না থাকলেও সাবধান কিন্তু থাকতেই হবে: ডাঃ দেবব্রত রায়
আবার কোভিদ। আবার করোনার দাপট ফিরে এল। আবার সেই আতঙ্কিত জীবন যাপন।
সত্যিই কি এতটাই সমস্যাসঙ্কুল হতে চলেছ আমাদের আগামী কয়েক মাস? এখনো পর্যন্ত খবর এই মুহূর্তে দেশে একটিভ কেসের সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাত হাজার এবং ইতিমধ্যেই প্রায় ১২000 মানুষ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছেন। মৃত্যুর সংখ্যা মাত্র ৮৭। প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছেন ১০০০ থেকে ১২০০ মানুষ – যা আগের পর্যায়ের থেকে অনেকটাই কম। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে এটা পূর্ণ পর্যায়ের পরিস্থিতি নয়। এই সংখ্যা আরো বাড়বে এবং এর সবচেয়ে বড় কারণ জনবহুল স্থানে মাস্ক ব্যবহার না করা এবং সাধারণ জনস্বাস্থ্য বিধি না মানার প্রবণতা।

ভারতের সবচেয়ে আতঙ্কের জায়গা (হটস্পট ) গুলো হল দিল্লি ,মুম্বাই ,পুনে, চেন্নাই এবং ব্যাঙ্গালোর। তবে এখনো পর্যন্ত যা খবর তাদের ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই উপসর্গ অতি সামান্য ।
তবে যাদের বয়স ৬৫ বছরের ওপর এবং যাদের ডায়াবেটিস আছে, ফুসফুসের রোগ আছে অথবা উচ্চ রক্তচাপ বা হার্টের অসুখ, কিডনির অসুখ আছে বা কোন না কোন কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইম্যুনিটি কমে গেছে বা দীর্ঘসময় একটানা উচ্চ মাত্রায় স্টেরয়েড ব্যবহার করছেন তাদের ক্ষেত্রে উপসর্গ তীব্রতর হবার সম্ভাবনা বেশী থাকে।

উপসর্গ :
জ্বর, কাশি, গলাব্যথা, সর্দি, শরীর ব্যথা ,ভয়ংকর দুর্বলতা এবং পেটের সমস্যা। আশ্চর্যজনকভাবে এইবারে ঘ্রাণ শক্তি চলে যাওয়া বা খাবারের স্বাদ চলে যাওয়ার মত উপসর্গগুলো খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। এবারে যে ভাইরাসটি দিয়ে রোগটি হচ্ছে তা সেই সময়কার ওমিক্রন প্রজাতির ভাইরাসের একটি প্রকার ভেদ মাত্র। প্রকৃতিতে থাকতে থাকতে এদের মধ্যে সামান্য কিছু জিনগত পরিবর্তন ( মিউটেশন)হয়েছে ।
এবং এই মিউটেশন খুবই অল্প মাত্রায়। ফলতঃ তীব্রতা হ্রাস পেয়েছে। এমনিতে উপসর্গ মৃদু হলেও কখনো কখনো ক্ষেত্র বিশেষে তার বাড়ছে এবং কখনো কখনো চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হচ্ছে।

কখন নেবেন চিকিৎসকের পরামর্শ?-
* তিন দিনের বেশি জ্বর চলতে থাকলে।
* শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা হলে।
*দুর্বলতা দীর্ঘস্থায়ী হলে।
*শরীরে অক্সিজেনের পরিমাণ ৯৪% এর নীচে নেমে এলে।
*সঙ্গে কোমরবিডিটি (ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সার ,কিডনির অসুখ , এইচ আই ভি সংক্রমণ ইত্যাদি) থাকলে।
তবে আশার কথা এই যে এবারে মৃত্যুহার তুলনায় অনেক কম। আগেরবার মৃত্যুর হার ছিল ১.১৮% এবারে সেটা এখনো পর্যন্ত ০.৪৫%। এবং প্রায় প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই যাঁরা মারা গেছেন তাঁদের কোনো না কোনো কো- মরবিডিটি ছিল।এখনো পর্যন্ত রেকর্ড অনুযায়ী সবচেয়ে কম বয়সী যে মারা গেছে তার বয়স পাঁচ মাস এবং সবচেয়ে বেশি বয়সী যে মারা গেছে তার বয়স ৮৭ বছর।
এখন একটা বড় প্রশ্ন হল- এর আগে যাদের ভ্যাকসিন দেওয়া আছে তারা কতটা নিরাপদ?
পরিসংখ্যান বলছে আমাদের দেশে আগের বারে প্রথম দুটি ভ্যাকসিনের প্রাপক ৯৫ শতাংশ মানুষ। বুস্টার ডোজ নিয়েছিলেন মাত্র ৭৩ শতাংশ।
এই বুস্টার ডোজ যাদের নেওয়া আছে তাদের নতুন করে করোনা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কম। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যে তৃতীয় বুষ্টার ডোজ দেবার প্রক্রিয়াকরণ শুরু হয়েছে। (updated booster)। তবে আগেরবারের মতো ঢেলে সবাইকে এটি নেবার প্রয়োজন নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।। যাঁদের বয়স ষাট বছরের বেশি যাঁরা অন্যান্য অসুখে( ডায়াবেটিস, কিডনির অসুখ, সিওপিডি, হার্টের অসুখে) ভুগছেন।

এবং যাঁরা স্বাস্থ্যকর্মী নিয়মিত এই ধরনের রোগীদের সংস্পর্শে আসছেন অথবা যাদের ইমিউনিটি কম তাঁদের জন্যই এই আপডেটেড বুস্টার ডোজ নেবার কথা বলা হয়েছে। গতবারের দীর্ঘদিন আইসোলেশনে থাকবার নিদান থাকলেও এবারে দেখা যাচ্ছে ৫ থেকে ৭ দিন আইসোলেশনে থাকলেই যথেষ্ট এবং উপসর্গ না থাকলে ২৪ ঘন্টা বাদে স্বাভাবিক জীবনে ফেরা যেতে পারে।

তবে এই রোগ থেকে বাঁচতে কতগুলো স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতেই হবে–
*ঘন ঘন হাত ধোয়া।
* স্যানিটাইজার ব্যবহার করা।
*বসবাসের জায়গা যতটা সম্ভব হাওয়া বাতাস যুক্ত থাকতে হবে।
*জনবহুল জায়গায় মাস্কের যথেচ্ছ ব্যবহার করা
* এবং যাঁরা অন্যান্য বিভিন্ন অসুখে ভুগছেন তাঁরা অতিরিক্তভাবে সাবধানতা অবলম্বন করবেন এবং বিন্দুমাত্র উপসর্গ দেখা দিলেই করোনা টেস্ট করিয়ে নিতে হবে।
তবে একটা কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে আতঙ্কিত হবার কারন না থাকলে ও সাবধান কিন্তু থাকতেই হবে। এ ব্যাপারে বিন্দুমাত্র অবহেলা কিন্ত ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে জীবনে।








