
#মালবাজার: প্রতিদিন বনের থেকে সংগ্রহ হচ্ছে জ্বালানি কাঠ, গবাদি পশুর জন্য গাছের পাতালতা ও ঘাস। এর ফলে কমে আসছে তৃনভোজী বন্যপ্রাণীর খাদ্য সম্ভার খাদ্য সংকটে তাই হাতি, বাইসন সহ অন্যান্য বন্য প্রানীরা হানা দিচ্ছে লোকালয়ে। এতেই মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাত বাড়ছে। এমনটাই অভিমত ডুয়ার্সের পরিবেশ প্রেমীদের। কেউ যদি নাগরাকাটা ব্লকের ১৭নম্বর জাতীয় সড়কের জলঢাকা সেতুর উপর বিকালের দিকে দাঁড়িয়ে থাকে তবে চোখে পড়বে অপরূপ এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

সেই সাথে দেখা যাবে বেশ কিছু নারী পুরুষ মাথায় করে জঙ্গল থেকে কাঠ কিম্বা বাড়ির গবাদিপশুর জন্য গাছের কচি পাতা,ঘাস সংগ্রহ করে বাড়ি ফিরছে। বন বিভাগের ভাষায় এটাকে হেড লোডিং বলে। এ রকম দৃশ্য কেবল জলঢাকা পারেই নয়, মুর্তি নদীর ধারে ধুপঝোড়া এলাকায়, তোতাপাড়া, ডায়না সহ বিভিন্ন এলাকার নিত্যদিনের দৃশ্য। এভাবে বনের থেকে জ্বালানি কাঠ কিম্বা ঘাস সংগ্রহ করতে হাতির হানায় মাঝেমধ্যে মৃত্যুও হয়।

বনকর্মীরা সচেতনতা প্রচার করলেও এই প্রবনতা থামেনি। চালসার বিশিষ্ট পরিবেশ প্রেমী মানবেন্দ্র দে সরকার বলেন, বনবস্তি ও আশেপাশের এলাকায় বহু মানুষ গবাদিপশু পালন করে। গবাদিপশুর জন্য সেরকম তৃনভূমি এই এলাকায় ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। এজন্য গবাদিপশুর খাদ্যের জন্য বনের মধ্যে থাকা কাঞ্চন, জরুল সহ বিভিন্ন গাছের পাতা ডাল ও ঘাস কেটে আনে। এসব আবার তৃনভোজী বন্য প্রানীর খাদ্য। ফলে বন্যপ্রাণীর খাদ্য সংকটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ সমস্যা তৈরি করে।

আর এক পরিবেশ প্রেমী সুমন চৌধুরী বলেন, একজন লোক যদি প্রতিদিন ৩০ কেজি ঘাস কেটে আনে আর এরকম ১০০জন যদি কেটে আনে তবে একটি এলাকায় ৩ টন ঘাস ও গাছের পাতা সংগ্রহ হয়। এভাবে প্রতিদিন সংগ্রহ হচ্ছে তাতে বনের ভিতরে সবুজের পরিমাণ কমে আসবে। তাতে বন্যপ্রাণীর খাদ্য সংকট তো হবে।
বন্যপ্রাণীর খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসার অন্যতম এক কারন। বনকর্মীরা অবশ্য নিয়মিত গ্রামের ভিতরে এনিয়ে প্রচার করেন। কিন্তু, সেই প্রচার সেরকম প্রভাব ফেলতে পারেনি বলে অভিমত।









