Explore

Search

October 24, 2026 2:22 pm

IAS Coaching

বিজয়ার শুভেচ্ছায় ‘ওঁম নমঃ এআই’, সাবেকিয়ানাকে টেক্কা আধুনিকতার

#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ সময় বদলেছে, বদলেছে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানানোর ধরনও। একসময় বিজয়ার প্রণাম জানাতে বাড়ি বাড়ি যাওয়া, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করা কিংবা হাতে লেখা চিঠিতে মনের কথা পৌঁছে দেওয়াই ছিল বাঙালির চিরাচরিত রীতি। তারপর এল মোবাইল ফোন, এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ আর সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ। আর এবার সেই শুভেচ্ছা বিনিময়ের জগতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। সাবেকিয়ানার বেড়াজাল ভেঙে আধুনিক প্রযুক্তির হাত ধরে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাতে মজেছে আট থেকে আশি—সেই তালিকায় উঠে আসছে ‘ওঁম নমঃ এআই’-এর মতো নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ভাবনা।

দুর্গাপুজোর আনন্দ-উৎসবের রেশ কাটতেই শুরু হয় বিজয়ার আন্তরিকতা। ছোটদের স্নেহাশিস, বড়দের প্রণাম আর সমবয়সীদের শুভেচ্ছা বিনিময়ে মেতে ওঠেন বাঙালিরা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চেনা আবেগ প্রকাশের মাধ্যমেও এসেছে পরিবর্তন। এখন আর শুধু একটি লেখা বা পরিচিত ছবি পাঠিয়েই দায় সারতে চাইছেন না অনেকে। নিজের পছন্দ, কল্পনা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করছেন অভিনব ডিজিটাল শুভেচ্ছাবার্তা। আর সেই কাজেই সহায়ক হয়ে উঠছে এআই।

শুভেচ্ছার কার্ডেও দেখা যাচ্ছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। শিক্ষিকা পর্ণা মিতা রায় বলেন, এআইয়ের সাহায্যে তৈরি করা যাচ্ছে ব্যক্তিগত পছন্দমতো বিজয়ার শুভেচ্ছার ছবি, নান্দনিক ডিজিটাল কার্ড, বাঙালির ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সাজানো প্রতিকৃতি কিংবা শারদীয় আবহে অভিনব গ্রাফিক্স। কোথাও ধরা পড়ছে ধুনুচি নাচের আবহ, কোথাও আবার শঙ্খ, প্রদীপ, শিউলি আর আলপনার নকশায় ফুটে উঠছে বাঙালির উৎসবের চেনা রূপ। কয়েকটি নির্দেশ বা প্রম্পট দিয়েই তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে নিজের ভাবনার সঙ্গে মানানসই শুভেচ্ছাবার্তা।

সরকারি আধিকারিক শুভাশিস মালি বলেন, বিশেষ করে যাঁরা ছবি সম্পাদনা বা গ্রাফিক্স তৈরির কাজে দক্ষ নন, তাঁদের কাছেও এই প্রযুক্তি খুলে দিচ্ছে নতুন সম্ভাবনার দরজা। ফলে প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত তরুণ প্রজন্মের পাশাপাশি বয়স্কদের মধ্যেও এআই নিয়ে কৌতূহল তৈরি হওয়ার সুযোগ বাড়ছে।

দেবীনগরের বাসিন্দা সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, বর্তমান যুগে সেই আবেগ আর নেই। ভাব প্রকাশের মাধ্যমের নতুন মাধ্যম হিসেবে উপস্থিত হয়েছে এ আই। তিনি বলেন, তবে প্রযুক্তির এই উত্থানে বিজয়ার মূল সুরটি বদলে যায়নি। প্রিয়জনের মঙ্গল কামনা, সম্পর্কের বন্ধন অটুট রাখার আকাঙ্ক্ষা এবং পুরনো মান-অভিমান ভুলে কাছে আসার বার্তাই বিজয়ার আসল পরিচয়। এআই সেই আবেগের বিকল্প নয়, বরং তাকে নতুনভাবে প্রকাশ করার একটি মাধ্যম মাত্র।

একটি অভিনব ছবি বা সৃজনশীল ডিজিটাল কার্ড মুহূর্তে অনেকের নজর কাড়তে পারে। কিন্তু প্রিয় মানুষের কাছ থেকে পাওয়া আন্তরিক ফোন, বাড়িতে গিয়ে প্রণাম করা কিংবা মুখোমুখি বসে কুশল বিনিময়ের আবেদন আজও আলাদা। তাই আধুনিকতার সঙ্গে ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটাতে পারলেই প্রযুক্তির ব্যবহার হয়ে উঠবে আরও অর্থবহ।

ওঁম নমঃ এআই’ কি তবে নতুন ভাবনার ইঙ্গিত! প্রশ্ন করতেই অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনিরুদ্ধ সিনহা বলেন,বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাতে ‘ওঁম নমঃ এআই’-এর দ্বারস্থ হওয়ার এই প্রবণতা আসলে সময়ের পরিবর্তনেরই প্রতিফলন। প্রযুক্তি এখন কেবল কাজের সুবিধা বা তথ্য পাওয়ার মাধ্যম নয়, ব্যক্তিগত সৃজনশীলতা প্রকাশের ক্ষেত্রও হয়ে উঠছে। উৎসবের আবেগকে ডিজিটাল দুনিয়ায় তুলে ধরতে এআইয়ের ব্যবহার সেই পরিবর্তনকেই সামনে আনছে। তবে এআই দিয়ে তৈরি ছবি বা বার্তা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রযুক্তির তৈরি ছবি ও বাস্তব ছবির মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কেও সচেতন থাকা প্রয়োজন।

 

সব মিলিয়ে, বিজয়ার শুভেচ্ছায় সাবেকিয়ানা আর আধুনিকতার এই টানাপোড়েনে নতুন দিশা দেখাচ্ছে প্রযুক্তি। প্রণামের ভঙ্গি বদলাতে পারে, শুভেচ্ছার কার্ডের রূপ বদলাতে পারে, বদলে যেতে পারে বার্তা পাঠানোর মাধ্যমও—কিন্তু সম্পর্কের উষ্ণতা আর শুভকামনার আন্তরিকতাই থেকে যায় বিজয়ার প্রকৃত সম্পদ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja