
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, ইটাহারঃ পঠনপাঠনের মানোন্নয়ন থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষার পরিসর—ইটাহারের ড. মেঘনাদ সাহা কলেজকে জেলার অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চান সদ্য নিযুক্ত পরিচালন সমিতির সভাপতি বাসুদেব সরকার। মঙ্গলবার কলেজে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মুখে এমনই ইচ্ছার কথা জানান তিনি।

তবে মঙ্গলবারই পরিচালন সমিতির সভাপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করছেন না বাসুদেব সরকার। আগামী ১৩ই অক্টোবর সম্ভবত সকলকে পাশে নিয়ে এই গুরু দায়িত্বভার কাঁধে তুলে নেবেন তিনি। বাসুদেব বাবু বলেন, “আজ দায়িত্ব নেওয়ার দিন নয়। মঙ্গলবার মহান বিজ্ঞানী ড. মেঘনাদ সাহার জন্মদিন। কলেজের ডাকে সেই মহান বিজ্ঞানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই যাচ্ছি।”

নিজের সঙ্গে কলেজের আত্মিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন নবনিযুক্ত সভাপতি। তাঁর কথায়, “আমি এই কলেজের প্রাক্তনী। এই মাটি থেকেই আমার শিক্ষা-দীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আমি কৃষক পরিবারের সন্তান। আজ জীবনে যতটুকু শিখেছি, তার পিছনে এই কলেজের অবদান রয়েছে।”

কলেজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বাসুদেব সরকার জানান, পঠনপাঠন এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ড. মেঘনাদ সাহা কলেজকে রাজ্যের প্রথম সারির কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার ছাত্রছাত্রীরা যাতে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে কোনওভাবেই পিছিয়ে না পড়ে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, কলেজের অধ্যাপক-অধ্যাপিকা এবং শিক্ষাকর্মীদের কাজের ক্ষেত্রে যাতে কোনও ধরনের সমস্যা তৈরি না হয়, সে বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। অধ্যক্ষ ড. অমিত ভৌমিকের নেতৃত্বে কলেজের সকলকে সঙ্গে নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের জন্য আরও উন্নত ও উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

একইসঙ্গে কলেজের আর্থিক ব্যবস্থাপনাতেও নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, অতীতে কীভাবে অর্থ বা সরকারি অনুদানের অর্থ খরচ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার সুবিধার কথা মাথায় রেখে ড. মেঘনাদ সাহা কলেজকে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নিয়ে আসার যে সরকারি সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং তা বাস্তবে কার্যকর হচ্ছে কি না, সেই বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হবে।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল থেকেই ড. মেঘনাদ সাহা কলেজ চত্বরে ছিল সাজো সাজো রব। মহান বিজ্ঞানী ড. মেঘনাদ সাহার জন্মদিন উপলক্ষে কলেজে বিভিন্ন কর্মসূচিকে ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী এবং ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ছিল উৎসাহ। সেই আবহেই কলেজের প্রাক্তনী তথা নবনিযুক্ত পরিচালন সমিতির সভাপতির ভবিষ্যৎ ভাবনা ঘিরে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।




