
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ রাত নামলেই অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে কুলিক বনাঞ্চল সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। কুলিক নদীর ব্রিজ থেকে কুলিক পাখিরালয়ের ভিতর দিয়ে কুলিক ফরেস্ট মোড় পর্যন্ত একাধিক স্ট্রিট লাইট দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। দুর্গাপুজোর আগে এই পরিস্থিতিতে রাতে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কুলিক বনাঞ্চলের ভিতরে রয়েছে কুলিক বনবস্তি। সেখানে প্রায় ২০০ জন মানুষের বসবাস। পাশাপাশি মনিপাড়া, ভট্টদিঘী-সহ আরও কয়েকটি ছোট জনপদ রয়েছে বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায়। প্রতিদিন এই সমস্ত এলাকার বহু মানুষ কাজের প্রয়োজনে রায়গঞ্জ শহরে যাতায়াত করেন। সন্ধ্যার পর বাড়ি ফেরার সময় কুলিক বনাঞ্চলের ভিতর দিয়ে যাওয়া সড়কের দীর্ঘ অংশ অন্ধকারে থাকায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাঁদের।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এর আগেও অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁদের। ফলে পুজোর মরশুমে রাতের যাতায়াত নিয়ে আশঙ্কা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে কর্মসূত্রে বা অন্যান্য প্রয়োজনে সন্ধ্যার পর শহর থেকে বাড়ি ফেরেন এমন মানুষদের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত স্ট্রিট লাইটগুলি সচল করার দাবি উঠেছে।

স্থানীয়দের বক্তব্য, বর্তমানে রায়গঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় আলোর ব্যবস্থা করা হলেও শহর সংলগ্ন কুলিক ব্রিজ থেকে কুলিক ফরেস্ট মোড় পর্যন্ত রাস্তার একাধিক আলো খারাপ অবস্থায় রয়েছে। তাঁদের দাবি, অকেজো বাতিগুলি দ্রুত মেরামত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জায়গায় নতুন স্ট্রিট লাইট বসানো হোক। একই সঙ্গে বনাঞ্চলের সৌন্দর্য ও জাতীয় ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আলোগুলিকে তিরঙ্গা রঙে সাজানোর প্রস্তাবও দিয়েছেন তাঁরা।

এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে সাংসদ কার্তিক পাল এবং বিধায়ক তথা মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরীর কাছে, তাঁদের দাবি, ফরেস্ট মোড়, সোহরাই, মধুপুর, মনিপাড়া, বারদুয়ারী, মহারাজা, ভট্টদিঘী-সহ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের ছেলে-মেয়েরা রাতের বেলায় এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন। পর্যাপ্ত আলো থাকলে তাঁদের যাতায়াত অনেকটাই নিরাপদ হবে।

পুজোর আগে দ্রুত স্ট্রিট লাইটগুলি মেরামত ও প্রয়োজনীয় নতুন আলো বসানোর ব্যবস্থা করা হবে বলে আশাবাদী স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের কথায়, “পুজোর আগেই আলো জ্বালিয়ে দিলে সেটিই হবে এলাকার মানুষের জন্য বড় উপহার।”




