
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ গুরুতর শারীরিক সঙ্কট। প্রবল পেশির দুর্বলতার পাশাপাশি শ্বাস-প্রশ্বাসের পেশিও আক্রান্ত। দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হয়েছে ভেন্টিলেটরি সাপোর্টের। এমনই জটিল পরিস্থিতিতে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক মাসকুলার ডিস্ট্রফি আক্রান্ত রোগীর ৪৫ দিনের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে জানাল রায়গঞ্জের জীবনরেখা হাসপাতাল। এই চিকিৎসার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে বলে জানালেন ওই বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সংকটজনক অবস্থায় ওই রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। মাসকুলার ডিস্ট্রফির কারণে তাঁর শরীরে পেশির শক্তি ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছিল। শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত পেশিগুলি দুর্বল হয়ে পড়ায় শ্বাসযন্ত্রের কার্যক্ষমতাও ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে দীর্ঘ সময় ভেন্টিলেটরি সাপোর্টের প্রয়োজন হয়।

প্রায় ৪৫ দিন ধরে চলে নিবিড় চিকিৎসা। হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার টিমের পাশাপাশি শ্বাসযন্ত্রের ব্যবস্থাপনা, মাল্টিডিসিপ্লিনারি চিকিৎসা এবং দীর্ঘমেয়াদি ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশনের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। চিকিৎসার প্রতিটি পর্যায়ে রোগীর শারীরিক পরিস্থিতির উপর নজর রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে।

দীর্ঘ চিকিৎসার পর ধীরে ধীরে রোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করে। হাসপাতাল সূত্রে দাবি, বর্তমানে তিনি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন এবং হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছেছেন। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়ার কথা রয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, মাসকুলার ডিস্ট্রফির মতো জটিল ক্ষেত্রে শুধুমাত্র প্রাথমিক চিকিৎসাই নয়, দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিটিক্যাল কেয়ার, শ্বাসযন্ত্রের সহায়তা, পুষ্টি, পেশির কার্যক্ষমতা বজায় রাখা এবং পুনর্বাসন—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন হয়। এই রোগীর ক্ষেত্রেও চিকিৎসার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ফিজিওথেরাপি ও রিহ্যাবিলিটেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডা. শান্তনু দাস বলেন, জটিল অবস্থায় থাকা রোগীর চিকিৎসায় চিকিৎসক, নার্স, ক্রিটিক্যাল কেয়ার কর্মী, ফিজিওথেরাপিস্ট-সহ বিভিন্ন বিভাগের স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ ৪৫ দিনের চিকিৎসা-পর্বে সেই সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই রোগীর অবস্থার উন্নতি সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান।

এই সাফল্যের ঘটনাকে কেন্দ্র করে জীবনরেখা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জটিল রোগীর চিকিৎসায় ক্রিটিক্যাল কেয়ার ও পুনর্বাসনের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে।




