
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ সদ্য সমাপ্ত রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে ৫৮ হাজার ৬৪১ ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী কৌশিক চৌধুরী। তিনি পরাজিত করেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণীকে। তবে ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই রায়গঞ্জ শহরের তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত, পুর পরিষেবা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম সমস্যা। আবর্জনা পরিষ্কারের কাজ কিছুটা শুরু হলেও, কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে পুরসভার বাড়ি বাড়ি পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থা। ফলে তীব্র গরমের মধ্যে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন শহরবাসী।

৪ মে ভোট গণনার পর, পুরসভার সামনে বিক্ষোভে সামিল হন সাফাই বিভাগের ক্যাজুয়াল কর্মীরা। অভিযোগ, বেতন সহ বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে তাঁরা আন্দোলনে নামেন। এরপর থেকেই একে একে থমকে যায় পুরসভার একাধিক পরিষেবা। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে পানীয় জল সরবরাহ ব্যবস্থায়।

শহরের বিভিন্ন জল সরবরাহ কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ জায়গাতেই কর্মীদের দেখা মেলেনি। বন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে পাম্প ও সরঞ্জাম। ফলে বহু ওয়ার্ডে কয়েকদিন ধরেই বাড়িতে জল পৌঁছচ্ছে না বলে অভিযোগ।

২৫ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা বলেন, “এই গরমে জল ছাড়া থাকা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছে। বাইরে থেকে জল কিনে আনতে হচ্ছে।” ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রুবি দাস বলেন, “ছোট ছোট বাচ্চা ও বয়স্ক মানুষদের নিয়ে খুব সমস্যায় পড়েছি। সকাল থেকে জল না থাকায় রান্নাবান্নাও করা যাচ্ছে না।”

৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুজিত কুমার পাল বলেন, “আমাদের ওয়ার্ডে পানীয় জলের পরিষেবা আগেও অনিয়মিত ছিল। এখন তো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে।” একই অভিযোগ উঠেছে ১৩ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকেও। বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।

উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের আগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি পানীয় জল সরবরাহ প্রকল্প চালু করেছিল রায়গঞ্জ পুরসভা। সেই পরিষেবা ভোটের ফল প্রকাশের পর হঠাৎই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

এ প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা তন্ময় দত্ত বলেন, “এই পুরসভা সম্পূর্ণ ব্যর্থ। শহর জুড়ে আবর্জনার স্তূপে মানুষ অতিষ্ঠ। তার উপর পানীয় জল পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।” যদিও গোটা বিষয় নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে চাননি রায়গঞ্জের পুর আধিকারিকেরা। প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ আরও বাড়ছে শহরবাসীর মধ্যে।




