
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ মৃত্যুর শোককে মানবকল্যাণের অঙ্গীকারে পরিণত করল রায়গঞ্জের একটি পরিবার। প্রয়াত অসীমা গুপ্ত দাসের শ্রাদ্ধানুষ্ঠানেই মরণোত্তর দেহ ও অঙ্গদানের অঙ্গীকার করলেন একই পরিবারের ৮ জন সদস্য। শুধু তাই নয়, প্রয়াতের স্মৃতিতে পরিবারের উদ্যোগে আয়োজন করা হল রক্তদান শিবিরও। সেখানে ১২ জন রক্তদাতা রক্তদান করেন।

জানা গিয়েছে, অসীমা গুপ্ত বেশ কিছুদিন ধরে লিভারের জটিল রোগে ভুগছিলেন। মায়ের শারীরিক পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে তাঁর মেয়ে সায়ন্তী দাস নিজের লিভারের একটি অংশ মাকে দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু চিকিৎসা-সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই কয়েক দিন আগে মৃত্যু হয় অসীমা দেবীর।

এরপর মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তাঁর স্মৃতিকে মানবকল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। রায়গঞ্জের একটি বেসরকারি অনুষ্ঠান ভবনে আয়োজিত হয় অসীমা দেবীর শেষকৃত্য-পরবর্তী শ্রাদ্ধানুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানেই পরিবারের সদস্যরা মরণোত্তর দেহ ও অঙ্গদানের অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করেন।

পরিবারের উদ্যোগে একই সঙ্গে আয়োজন করা হয় রক্তদান শিবিরের। দিন শেষে মোট ১২ জন রক্তদাতা রক্তদান করেন। পাশাপাশি পরিবারের ৮ জন সদস্য মরণোত্তর দেহ ও অঙ্গদানের অঙ্গীকারবদ্ধ হন।

পরিবারের পক্ষ থেকে মিঠুন সাহা ও সায়ন্তী দাস বলেন, “মাকে হারানোর কষ্ট কোনওদিন পূরণ হওয়ার নয়। কিন্তু তাঁর স্মৃতিকে যদি অন্য মানুষের জীবন বাঁচানোর কাজে যুক্ত করা যায়, সেটাই হবে তাঁর প্রতি আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধা। মরণোত্তর দেহ ও অঙ্গদান এবং রক্তদানের মাধ্যমে অন্য মানুষের উপকার হোক—এটাই আমাদের পরিবারের প্রত্যাশা।”

পরিবারের এই উদ্যোগে উপস্থিত ব্যক্তিরাও মরণোত্তর দেহ ও অঙ্গদানের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। শোকের আবহে এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে দেহ ও অঙ্গদানের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছেন উদ্যোক্তারা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমর রাহা, কৌশিক ভট্টাচার্য, তাপস জোয়ারদার, মণিদীপা সেন, শুচিস্মিতা সেন সহ একাধিক বিশিষ্ট মানুষেরা।






