Explore

Search

October 24, 2026 3:08 pm

IAS Coaching

পাখি সুমারি২০২৬, কুলিক পাখিরালয়ে লাফিয়ে বাড়ল পরিযায়ী পাখির সংখ্যা, উৎফুল্ল পরিবেশ কর্মীরা

#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ রায়গঞ্জের কুলিক পক্ষীনিবাসে পরিযায়ী পাখির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় খুশি পরিবেশপ্রেমী ও কর্মীরা। সম্প্রতি রাজ্য বনদপ্তরের উদ্যোগে ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর কুলিক পক্ষীনিবাসে পাখি সুমারি করা হয়। সেই সুমারির রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের তুলনায় এবার কুলিকে পাখির সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৯২৫৪টি।

এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পক্ষীনিবাস হিসেবে পরিচিত কুলিক। প্রতি বছর বর্ষার পর দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিযায়ী পাখিরা এখানে এসে ভিড় জমায়। এবারের সুমারিতে কুলিকে পাখির মোট আনুমানিক সংখ্যা ১ লক্ষ ৯ হাজার ৩১৪টি। সুমারি রিপোর্টে এই সংখ্যার নিম্নসীমা ১ লক্ষ ৩ হাজার ১৯১ এবং ঊর্ধ্বসীমা ১ লক্ষ ১৫ হাজার ১৯৫টি ধরা হয়েছে।

সুমারি অনুযায়ী, কুলিকের সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় রয়েছে শামুকখোল বা Open-billed Stork। এবারের আনুমানিক সংখ্যা ৭৩ হাজার ৫২৫টি, যা মোট পাখির প্রায় ৬৭.২৬ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এই প্রজাতির সংখ্যাতেও বৃদ্ধি হয়েছে।

এছাড়া সাদা বক বা Egret-এর সংখ্যা এবার প্রায় ১৬ হাজার ৪৭১টি। পানকৌড়ি বা Cormorant-এর সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার ৯৫৯টি। তবে গত বছরের তুলনায় পানকৌড়ির সংখ্যা কিছুটা কমেছে বলে সুমারি রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গিয়েছে গ্লসি আইবিস-এর ক্ষেত্রে। এবারের সুমারিতে এই পাখির আনুমানিক সংখ্যা ৬ হাজার ৫৪৭টি। গত বছর যেখানে সংখ্যাটি ছিল প্রায় দেড় হাজারের কাছাকাছি, সেখানে এক বছরের ব্যবধানে তা কয়েক গুণ বেড়েছে। পাশাপাশি নাইট হেরন-এর সংখ্যাও বেড়ে হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৮১২টি।

পরিবেশকর্মীদের মতে, কুলিকের জলাভূমি, খাদ্যের জোগান এবং সবুজ পরিবেশ পরিযায়ী পাখিদের আকর্ষণ করছে। নতুন নতুন প্রজাতির পাখির উপস্থিতিও কুলিকের জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বকে সামনে আনছে।

রায়গঞ্জের ডিএফও ভূপেন বিশ্বকর্মা বলেন, কুলিকের পরিবেশ পরিযায়ী পাখিদের আকর্ষণ করে। নতুন নতুন প্রজাতির পাখিও এখানে আসছে। এবারের সুমারিতে বেশ কিছু প্রজাতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

পাখির সংখ্যা বৃদ্ধির এই পরিসংখ্যানকে কুলিকের পরিবেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই দেখছেন পরিবেশকর্মীরা। তাঁদের মতে, জলাভূমি ও পাখিদের আবাসস্থল সংরক্ষণ করা গেলে আগামী দিনে কুলিক আরও গুরুত্বপূর্ণ পক্ষীনিবাস হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে। পাশাপাশি কুলিককে কেন্দ্র করে পাখি পর্যবেক্ষণ ও পরিবেশ পর্যটনের সম্ভাবনাও আরও বাড়বে।

Advertisement
Live Cricket Score
upskillninja