
#চন্দ্র নারায়ণ সাহা, রায়গঞ্জঃ বর্ষার মরশুম এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি, পরিযায়ী পাখিরা ফিরে যাবে অন্য কোনো ঠিকানায়। তার আগেই রায়গঞ্জের কুলিক পক্ষিনিবাসে দেখা দিয়েছে এক অন্য ছবি। গাছের ডালে তৈরি বাসা থেকে পরিযায়ী পাখি ছিটকে পড়ে যাচ্ছে নীচের রাস্তায়। কোথাও আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে পাখিকে, কোথাও আবার স্থানীয় মানুষ ও পরিবেশকর্মীদের তৎপরতায় তাদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরিযায়ী পাখির সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়াকেই এর অন্যতম কারণ বলে দাবি করছেন পরিবেশকর্মীদের একাংশ।

প্রতি বছর বর্ষা আসলেই কুলিক নদী সংলগ্ন এলাকায় পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনা বাড়তে শুরু করে। বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, বিশেষ করে ওপেন বিল স্টক, কর্মোটেন্ট, ইগরেট পাখিরা গাছের ডালে বাসা তৈরি করে বংশবিস্তার করে। বর্তমানে কুলিকের গাছগুলিতে পাখির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বাসার ঘনত্বও অনেকটাই বেড়েছে বলে দাবি পরিবেশকর্মীদের।

পরিবেশ কর্মী ত্রিদীপ্ত ঘোষের বক্তব্য, একই গাছের ডালে পাশাপাশি অসংখ্য পাখি বাসা তৈরি করায় জায়গার অভাব তৈরি হচ্ছে। তার উপর পাখিদের চলাচল, উড়ান এবং বাসা থেকে ওঠানামার সময় অনেক ক্ষেত্রে ভারসাম্য হারিয়ে ছানা পাখি নীচে পড়ে যাচ্ছে। কুলিকের পাশ দিয়ে যাতায়াতকারী মানুষের নজরেও মাঝেমধ্যেই এমন দৃশ্য ধরা পড়ছে।

পরিবেশকর্মীদের একাংশের দাবি, পাখির সংখ্যা বৃদ্ধি কুলিকের পরিবেশগত সাফল্যেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। তবে একই সঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক পাখির নিরাপদ বাসস্থান ও প্রজননের পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। বিশেষ করে বাসা তৈরির গাছগুলির সুরক্ষা, মানুষের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং আহত পাখি উদ্ধারের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, রাস্তার উপর বা রাস্তার ধারে আহত পাখি পড়ে থাকতে দেখলে অনেকেই তা উদ্ধার করে বন দফতর বা পরিবেশকর্মীদের খবর দিচ্ছেন। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

পরিবেশকর্মীরা জানাচ্ছেন, কুলিক পক্ষিনিবাসে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী পাখি আসে। তাদের আগমনকে কেন্দ্র করে এলাকায় তৈরি হয়েছে বিশেষ পরিবেশগত গুরুত্ব। ফলে পাখির সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের প্রজননস্থল এবং নিরাপত্তার দিকটিও নজরে রাখা প্রয়োজন।

তবে বাসা থেকে পাখি পড়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে নিয়মিত নজরদারি ও তথ্যভিত্তিক সমীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করছেন পরিবেশবিদদের একাংশ। সংখ্যা বৃদ্ধিই প্রধান কারণ, নাকি বাসার অবস্থান, গাছের গঠন, আবহাওয়া কিংবা অন্য কোনও কারণও এর সঙ্গে যুক্ত—তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠছে।

কুলিকের আকাশে পরিযায়ী পাখিদের আনাগোনা যেমন স্থানীয়দের মনে আনন্দ তৈরি করছে, তেমনই রাস্তার উপর তাদের পড়ে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগও বাড়ছে। পাখিদের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে এখন প্রশাসন, বন দফতর, পরিবেশকর্মী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




