#কলকাতা: এসএসসি-র ২৬ হাজার চাকরি বাতিল মামলার রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট (SSC Supreme Court)। প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ জানিয়ে দিল, ২০১৬ সালের পুরো প্যানেলই বাতিল করা হল। অর্থাৎ কলকাতা হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল তাই বহাল রাখল সর্বোচ্চ আদালত। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই মামলার শুনানি শেষ করে রায় স্থগিত রেখেছিল শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার সেই রায় দিয়েই চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ কার্যত নির্ধারণ করে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
তবে কলকাতা হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, সেই রায় বজায় রাখলেও সামান্য বদল বা ‘মডিফিকেশন’ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। জানানো হয়েছে, যারা অন্য সরকারি দফতর থেকে এখানে এসেছিলেন, তাঁরা পুরনো জায়গায় যোগদান করতে পারবেন। আর এই কাজ করতে হবে আগামী ৩ মাসের মধ্যেই। এই ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, যে পরিমাপের দুর্নীতি হয়েছে, তা এখন আর শুধরে নেওয়ার অবকাশ নেই তাই নতুন করে পরীক্ষার কথাও বলা হয়েছে। তবে এমন চাকরিপ্রার্থী রয়েছেন, যাঁদের বয়স বেড়ে গেছে, তাঁদের কী হবে? শীর্ষ আদালত তাঁদের জন্য বয়সসীমা নিয়ম শিথিল করেছে।
২০১৬ এসএসসি-র শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল সেই মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়াই বাতিল করে দিয়েছিল। এর ফলে চাকরি হারান ২৫ হাজার ৭৫৩ জন। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। এছাড়া আলাদা করে মামলা করে রাজ্যের শিক্ষা দফতর, এসএসসি এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদও। দফায় দফায় মামলা করেন চাকরিহারারাও। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট চাকরি বাতিলে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত রায় দিল শীর্ষ আদালত।
এই মামলার মূল ইস্যুই ছিল, কীভাবে যোগ্য এবং অযোগ্যদের আলাদা করা সম্ভব। আসল উত্তরপত্র বা ওএমআর সিট উদ্ধার করা যায়নি বলে কোন ওএমআর সিটকে আসল ধরা হবে তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। শীর্ষ আদালতেরও পর্যবেক্ষণ ছিল, এই মামলায় আসল তথ্য জানা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সবকিছু মাথায় রেখেই মামলায় রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট।
আজকের শুনানিতে অবৈধ শিক্ষকদের বেতনের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। স্পষ্ট জানিয়েছে, যাঁদের চাকরি বাতিল হয়েছে তাঁদের এতদিনের বেতনের টাকা ফেরত দিতে হবে। প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, এই নিয়োগে ব্যাপক মাত্রায় দুর্নীতি হয়েছে।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে মূল মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ফের পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, এই দুর্নীতি এমনভাবে করা হয়েছে যাতে কেউ অবৈধ নিয়োগ খুঁজে বার না করতে পারে। তিনি বলেছিলেন, এত বড় নিয়োগ দুর্নীতির ‘স্পনসর’ খোদ রাজ্য সরকার! তাই পুরো প্যানেল বাতিল করেই নতুন করে নিয়োগ করা উচিত। এখন দেখা গেল, সেই যুক্তিই মেনে নিয়েছে শীর্ষ আদালত।