#নিউজ ডেস্ক: ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে ঘোষণা অনুসারে আজ থেকে গোটা দেশে চালু হয়েছে এনপিএস বাৎসল্য প্রকল্প। নয়া দিল্লি থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন দেশের অর্থমন্ত্রী শ্রীমতি নির্মলা সীতারমন। দেশের প্রায় ৭৫ টি স্থানে একযোগে এনপিএস বাৎসল্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী এনপিএস বৎসল্যে গ্রাহক হবার জন্য একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সূচনা করেন, স্কিমের বিশদ নির্দেশিকামূলক পুস্তিকারও প্রকাশ করেন।
এই অনুষ্ঠানে অপ্রাপ্তবয়স্ক গ্রাহকদের হাতে স্থায়ী অবসর অ্যাকাউন্ট নম্বর (প্রাণ) কার্ডও তিনি তুলে দেন। এই ক্ষুদ্র গ্রাহকরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই প্রকল্প অল্প বয়সেই তরুণ গ্রাহকদের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলবে এবং এনপিএস বৎসল্যের গ্রাহক চক্রবৃদ্ধির মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ জমাতে পারবেন। আশা করা হচ্ছে, এনপিএস বৎসল্য প্রকল্পটি বিকশিত ভারত@২০৪৭ এর জন্য সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড়োরকমের ভিত হয়ে উঠবে।
এনপিএস বৎসল্য প্রকল্পের সূচনার অঙ্গ হিসেবে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার সেকেরকোট উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রাজ্য স্তরীয় ব্যাংকার্স কমিটির (এসএলবিসি) আহ্বায়ক পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের তরফে একটি বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এন.পি.এস বাৎসল্যের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচার দেখানো হয় সেকেরকোট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে, ১৮ বছরের কম বয়সী ছেলে-মেয়েদের অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের জন্য যেকোন ব্যাঙ্ক-এর একাউন্টে বছরে নুন্যতম ১০০০ টাকা করে জমা করতে পারবে নুতন এই প্রকল্পে।
যখন ঐ ছেলে মেয়েদের ১৮ বছর পূর্ণ হবে প্রয়োজন বোধে জমানো অর্থের সম্পূর্ণ বা একাংশ উঠতে পারবেন।পরে সেই শিশুরা একদিন ৬০ বছর পূর্ণ হলে সেই অর্থ বিনিয়োগের দৌলতে পেনশন পাবে। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ঋতুরাজ কৃষ্ণা জানিয়েছেন প্রকল্পটিকে জীবনের শুরু থেকেই সঞ্চয় প্রবনতা, আর্থিক ভাবে আত্মসুরক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কম বয়স থেকে বৃদ্ধ বয়সের আর্থিক নিশ্চয়তাদেবার ব্যাপারে এই প্রকল্প সম্পর্কে বিশদে আলোচনা করেন ব্যাংকের আধিকারিকরা।
ভবিষৎ সু-নিশ্চয়তার কথা ভেবে এমন একটি প্রকল্প চালু করায় দেশের অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিদ্যালয়টির জুয়েল সূত্রধর, কাবেরী চক্রবর্তী, সৌরভ বণিকের মতো ছাত্র-ছাত্রীরা। তাদের অভিমত, স্কুলের টিফিন ও হাতখরচের টাকা বাঁচিয়ে হলেও ছাত্র-ছাত্রীদের এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রয়োজন। শুন্য থেকে ১৮ বছরের কম বয়সী ছেলে -মেয়েরা এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য স্তরীয় ব্যাংকার্স কমিটির (এসএলবিসি)-র ম্যানেজার উত্তম কুমার মুখার্জী, লিড ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার মনোজ ভৌমিক, নাবার্ডের ডি ডি এম রাজেশ কুমার চান্দেকর, সেকেরকোট উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক সন্তুষ কুমার রায় চৌধুরী প্রমুখ।