#শুভজিৎ দাস, নিউজ বৃত্তান্ত : ‘আমরা কারা, রাজাকার’ এই একটা স্লোগান বেশ কিছুদিন ধরেই প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে ভারত তথা আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের মাটিতেও আছড়ে পড়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি যথেষ্ট সংবেদনশীল, তবে এই পরিস্থিতি আজ এক আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। কারণ সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন বলা ভালো ছাড়তে বাধ্যই হয়েছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে সোমবার যা ঘটে গেল তা এক কথায় ‘গণঅভ্যুত্থান’। এই অভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল সংরক্ষণ বিরোধী ছাত্র আন্দোলন দিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ চালু ছিল বাংলাদেশে। কিন্তু ছাত্র বা চাকরিপ্রার্থীদের তরফে অভিযোগ ছিল, এই ৩০ শতাংশের আড়ালেই স্বজনপোষণ,দুর্নীতি এবং সমস্যা সমাধানে সরকারের অনীহা। যা ছাত্র আন্দোলনের রূপ নেয় এবং ধীরে ধীরে বৃহৎ আকার ধারণ করে। এই আন্দোলন দমন করার জন্য সরকারের হিংস্র মনোভাব ‘আগুনে ঘি’ ঢালার কাজ করে।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায় ছাত্র, পুলিশ বা সাধারণ মানুষ সহ শতাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে এই হিংসায়। শেষমেষ এই কোটাবিরোধী আন্দোলন পৌঁছায় সে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য সর্বোচ্চ আদালতের রায় কিন্তু ছাত্রদের পক্ষেই যায়। ৩০ শতাংশ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ আসন ৫ শতাংশ নেমে আসে। এই রায় সামনে আসার পরে এই আন্দোলন কিছুটা স্তিমিত হলেও পুনরায় মাথা চাড়া দেয়। তবে এবার ছাত্রদের দাবি ছিল শেখ হাসিনাকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে আন্দোলনকারীদের কাছে।
যদিও এবার এই আন্দোলন কতটা ছাত্র আন্দোলন ছিল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এই আন্দোলনের পিছনে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির বিশেষ করে বিএনপি এবং জামাত-ই-ইসলামীর দিকে আঙুল তোলেন। এরই মধ্যে ছাত্রসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির থেকে দাবি উঠে শেখ হাসিনার পদত্যাগের। কারফিউ উপেক্ষা করে ঢাকা অভিমুখী হয় আন্দোলনকারীরা। অবশেষে সোমবার চাপের কাছে নতি স্বীকার করে পদত্যাগ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতিমধ্যেই দেশটির শাসনভার হাতে নিয়েছে সেনাবাহিনী। সেনাপ্রধান জানিয়েছেন খুব শীঘ্রই দেশে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হবে। হিংসা বন্ধের আর্জি জানানো হয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে।
এখন প্রশ্ন বাংলাদেশের এই পরিস্থিতি আমাদের দেশের ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। প্রথমত, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঘটনায় ভারতের সহযোগিতা আগামী দিনের বাংলাদেশ সরকার কোন চোখে দেখবে? দ্বিতীয়ত, ভারত বাংলাদেশের মধ্যে রেল,বাণিজ্য,নদী বা সামরিক ক্ষেত্রে যে সকল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে সেই সকল চুক্তির ভবিষ্যতই বা কি হবে? তৃতীয়ত সীমান্ত সমস্যা বা অনুপ্রবেশ কতটা মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠবে ভারতের ক্ষেত্রে। যদিও ভারত বরাবরই এই বিষয়টি নিয়ে ‘ধীরে চলো’ নীতি গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়েছে সীমান্ত বাণিজ্য। সীমান্তে জারি করা হয়েছে ‘হাই এলার্ট’।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলার পক্ষপাতী বলে জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি কোন রকম অপ্রীতিকার বা উত্তেজনা মূলক মন্তব্য থেকেও বিরত থাকতে বলেছেন সাধারণ মানুষকে।